পুঠিয়ায় মাদকের রমরমা কেনাবেচা

এফএনএস (কে এম রেজা; পুঠিয়া, রাজশাহী) : | প্রকাশ: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৬:০৬ পিএম
পুঠিয়ায় মাদকের রমরমা কেনাবেচা

রাজশাহীর পুঠিয়ায় উপজেলা জুড়ে মাদকের রমরমা কেনাবেচা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুঠিয়া এবং বেলপুকুর দুই থানা এলাকায় মাদককারবারিরা বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। পৌর সদরের ৪নং ওয়ার্ডে প্রতিদিন হাজার হাজার লিটার চোলাই মদ উৎপাদন এবং বিক্রি করা হচ্ছে। এখন নতুন কৌশলে চোলাই মদ বিক্রি হচ্ছে। বিভিন্ন স্থানে পরিত্যক্ত অবস্থায় পরে থাকা কমল পানির বোতল সংগ্রহ করে তার ভিতরে চোলাই মদ ঢোকায়ে চড়া দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এলাকাবাসীরা একাধিকবার মৌখিক থানায় অভিযোগ দিয়ে কোনো সুরাহা পাচ্ছে না। চোলাই মদ সেবন করে অনেকে বেহুস হয়ে যেখানে-সেখানে পরে থাকতে দেখা যায়। আবার কেউ মদ সেবন করতে এসে চুরি করে নিয়ে যাচ্ছে। থানা হতে আদিবাসি পাড়ার দুরত্ব মাত্র প্রায় ৬শত মিটার হবে। রাজশাহী হতে র‌্যাব এসে আদিবাসি পাড়ায় অভিযান চালাচ্ছেন। কিন্ত থানা পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য কর্মকর্তা সেখানে চুপচাপ রয়েছেন। পুঠিয়া পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের খলিফা পাড়া এবং শিশু পার্কের বিশাল এলাকা জুড়ে কয়েকজন চিহ্নিত মাদককারবারি প্রকাশ্য মাদক কেনাবেচা করছে। এছাড়া মোল্লাপাড়া,কান্দ্রা গুচ্ছুগ্রাম,ধোপাপাড়া,ফুলবাড়ি, নামাজগ্রাম,শিবপুর বাজার,বানেশ্বর হাট এলাকা,পীরগাছা তালুকদার গুচ্ছগ্রাম, গন্ডগোহালীর হলহোলিয়া, ঝলমলিয়া বাজার। রাজশাহী সিটি মেট্রোপলিটন বেলপুকুর থানা এলাকার ডিসির মোড়,বগারটেক, জামিরাসহ একাধিক স্থানে মাদকবারবারিরা রমরমা মদক কেনাবেচা করা হচ্ছে। আদিবাসি পাড়ার স্থানীয়রা জানায়,প্রতিটি মাদককারবারিদের সঙ্গে মাদকদ্রব্য কর্মকর্তা এবং পুলিশের কিছু সদস্যের সমঝোতা রয়েছে। আদিবাসী পাড়ায় চোলাই মদ তৈরির উপকরণগুলো ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার সক্রিয় কর্মী পরিচয় দানকারী সরবরাহ করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা জুড়ে হাত বাড়ালেই ফেনসিডিল ইয়াবা ইরোইন গাঁজা চোলাই মদ পাওয়া যায়। সংশ্লিষ্ট মাদক বিক্রেতা বলছে, পুলিশ এবং মাদকদ্রব্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে চুক্তি করে তারা মাদক কারবার করে আসছে। চুক্তি না করলে একদিনও মাদককারবার করা সম্ভব না। পুলিশ ও মাদকদ্রব্যের অভিযানে গিয়ে মাদকাসক্তদের আটক করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে থাকেন। এরপর মাঝেমধ্যে দুই/একজন ছোটখাটো মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। এতে করে বড় মাদককারবারিরা দ্রুত সমঝোতা করে ধরাছোঁয়ার বাহিরে থাকে। যারা প্রতিদিন প্রকাশ্যে লাখ লাখ টাকার মাদক কেনাচো করছে কিংবা শীর্ষ মাদককারবারিদের আটক করার নজির নেই। এ ব্যাপারে  মাদকদ্রব্যের পুঠিয়া সার্কেলের পরিদর্শক জাকির হোসেন বলেন, আমরা আদিবাসী পাড়ায় অভিযানে যাওয়ার আগে তারা কিভাবে যেন বুঝতে পাড়ে। তখন তারা চোলাই মদ তৈরি করার বন্ধ রেখে পালিয়ে যায়। আমরা প্রতিদিন মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে থাকি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে