চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সিআরবি এলাকায় ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ও ১০০ আসনের একটি মেডিকেল কলেজ নির্মাণের উদ্যোগ আবারও সামনে আসায় নতুন করে আলোচনা ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে নগরজুড়ে। প্রায় চার বছর আগে তীব্র আaলনের মুখে স্থগিত হয় এই প্রকল্পটি। তবে রেলপথ মন্ত্রণালয় পুনরায় এই প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিচ্ছে-এমন খবরে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছেন নগরবাসী। পরিবেশ আন্দোলনকর্মীরা বলছেন, সিআরবি চট্টগ্রামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সবুজ এলাকা। এখানে বড় অবকাঠামো নির্মাণ হলে পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হবে এবং নগরবাসীর উন্মুক্ত জায়গা কমে যাবে।
তারা বলেন, স্বাস্থ্যসেবা অবশ্যই প্রয়োজন; তবে তা এমন স্থানে হওয়া উচিত, যেখানে পরিবেশ ও ঐতিহ্যের ক্ষতি হবে না। সিআরবির পরিবর্তে অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে হাসপাতাল নির্মাণই হবে অধিক টেকসই ও জনস্বার্থসম্মত সিদ্ধান্ত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে মোস্তাফিজুর রহমান নামে এক সাংস্কৃতিক সংগঠক মন্তব্য করেন, সিআরবি চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক প্রাণকেন্দ্র। এখানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক আয়োজন হয়। এই স্থানে হাসপাতালের মতো প্রকল্প নির্মাণ করলে ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক চর্চা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
জানা গেছে, রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম আজ রবিবার চট্টগ্রাম সফরে এসে প্রকল্পস্থল পরিদর্শন করবেন। মন্ত্রণালয়ের একান্ত সচিব হাবিবুল হাসান রুমি স্বাক্ষরিত সফরসূচি অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল তিনি চট্টগ্রামে পৌঁছাবেন এবং ১৯ এপ্রিল বিকেল ৪টায় সিআরবি সংলগ্ন গোয়ালপাড়া এলাকায় প্রস্তাবিত হাসপাতালের স্থান পরিদর্শন করবেন। রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম সিদ্দিকী জানিয়েছেন, ১৮ থেকে ২১ এপ্রিল পর্যন্ত মন্ত্রীর সফরসূচি নির্ধারিত রয়েছে। এর অংশ হিসেবে সিআরবির প্রকল্প এলাকা পরিদর্শন গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে রাখা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বলছে, এই পরিদর্শনের পরই সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণে নীতিগত অনুমোদন দেওয়ার প্রস্তুতি রয়েছে। যদিও এ বিষয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে চাননি রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক (জিএম) সবুক্তগীন। উল্লেখ্য, ২০২২ সালে একই স্থানে হাসপাতাল নির্মাণের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর চট্টগ্রামজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। বিভিন্ন পরিবেশবাদী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন টানা এক মাসের বেশি সময় ধরে আন্দোলন চালায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) মডেলে। ‘ইউনাইটেড এন্টারপ্রাইজ’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ নির্মাণের দায়িত্ব পায়। চুক্তি অনুযায়ী, ৫০ বছর পর স্থাপনাটি রেলওয়ের কাছে হস্তান্তর করার কথা ছিল। তবে শুরু থেকেই প্রকল্পের স্থান নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা ছিল। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, সিআরবির পরিবেশগত ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় এখানে বাণিজ্যিক স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্প গ্রহণ করা অনুচিত। তারা বিকল্প স্থানে প্রকল্প স্থানান্তরের দাবি জানান।