কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর, নিকলী, কুলিয়ারচর, অষ্টগ্রাম, ইটনা, মিঠামইন প্রায় কয়েক লাখ কৃষক ইরি বোরো ধানের সঠিক দাম পাচ্ছে না। তাই এসব হাওরের কৃষকগণ ধানের সঠিক দর না পেয়ে কৃষককূল দিশেহারা হয়ে পড়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, যদিও অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর কৃষকরা ভেবেছিল ধানের সঠিক দাম পাবে। কিন্তু মধ্যস্বত্ব ভোগীদের নিকট থেকে ঋণের টাকা দিতে গিয়ে কৃষকগণ এখন বিপর্যয় অবস্থা রয়েছে বলে সূত্রে জানা গেছে। বাজিতপুর পৌরসভাসহ ১১টি ইউনিয়নের মধ্যে সবগুলো ইউনিয়নেই কম-বেশী পাতা রোগ, হলুদ রোগ সহ বিভিন্ন রোগে ইরি বোরো ধানের জমি নষ্ট হয়েছে। সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের কারণে কৃষকের জমিতে তৈল না পেয়ে সঠিক ভাবে ধানের জমি পরিচর্যা করতে না পারায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। এর ফলে যেখানে একরে ৭০-৮০ মন দর হওয়ার কথা সেখানে ৫০-৬০ মন দর হয়েছে। এর ফলে কৃষকের ১ মন ধান উৎপাদন খরচ পড়েছে যেখানে ১ হাজার টাকা সেখানে কৃষককে এখন ৭০০-৭৫০ টাকা দরে ধান বিক্রি করতে হচ্ছে। আগে একটি কথা ছিল গোলা ভরা ধান আর গোয়াল ভরা গরু। সে কথাটি কথার মধ্যেই এখন প্রচলিত রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে তা এখন আর নেই। একই সঙ্গে কৃষক বিভিন্ন এনজিও, মধ্য স্বত্বভোগীদের নিকট থেকে ঋণ নিয়ে জমি করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই বলেই কৃষক এখন দিশেহারা হচ্ছে বলে সূত্রমতে জানা গেছে। আজ বুধবার সকালে নিকলী গুরুই হাওরে গেলে কয়েকজন কৃষক জানান, তাদের ধানের জমি নিচু জায়গায় থাকায় ১ হাজার টাকায় তাদেরকে ধান কাটতে হচ্ছে। সেখানে ধান হয়েছে মাত্র প্রতি একরে ৪০-৫০ মন। এতে করে এ হাওরের কৃষকগণের প্রতি একর জমিতে পানি সহ ৭০-৮০ হাজার টাকা খরচ পড়েছে। সেখানে তাদের অর্ধেক লোকসান গুনতে হচ্ছে। এদিকে অষ্টগ্রাম হাওরের অনেক জমি পতিত রয়েছে বলে অনেক কৃষক জানিয়েছেন। কৃষককূল বলেন, আর কত লোকসান গুনবেন এর থেকে জমি পতিত থাকাই ভালো। শীত মৌসুমে তারা এসব জমিতে সবজি উৎপাদন করে অনেক লাভবান হয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। বাজিতপুর কৃষি কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, তারপরেও এসব হাওরে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।