জলাবদ্ধতা নিরসনে খাল খননের দাবি এলাকাবাসীর

সেনবাগে খাল অবৈধ দখল ও দূষণে অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে

এফএনএস (মোঃ জাহাঙ্গীর আলম; সেনবাগ, নোয়াখালী) : | প্রকাশ: ২৩ এপ্রিল, ২০২৬, ১১:২১ এএম
সেনবাগে খাল অবৈধ দখল ও দূষণে অস্তিত্ব বিলীন হওয়ার পথে

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার এক সময়ের খরস্রোতা ‘বদু গাজী খাল’ আজ অস্তিত্ব সংকটে। ফেনী-নোয়াখালী মহাসড়কের পাশ দিয়ে প্রবাহিত এই খালটি এখন অবৈধ দখল আর দূষণে মৃতপ্রায়। তবে দীর্ঘ সময় পর স্থানীয়দের মাঝে আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে খাল খনন কর্মসূচি। বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর পিতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের পদাঙ্ক অনুসরণ করে এই কর্মসূচি পুনরায় শুরু করায় সেনবাগবাসীর মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে।

ঐতিহ্যের বিলুপ্তি ও বর্তমান দশা

এক সময় এই বদু গাজী খাল দিয়ে বড় বড় সাম্পান ও মালবাহী নৌকা চলাচল করত। ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান নৌপথ ছিল এটি। স্থানীয়দের তথ্যমতে, আগে খালের প্রস্থ ছিল প্রায় ৭০ ফুট, যা বর্তমানে দখলদারদের কবলে পড়ে কোথাও ১৫-২০ ফুট, আবার কোথাও মাত্র ৫-৭ ফুটে এসে ঠেকেছে।

২৪-২৫-এর বন্যার ক্ষত ও বর্তমান সংকট

খালের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় বিগত ২৪ ও ২৫ সালের ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে মাছের ঘের, ফসলি জমি, গবাদি পশু এবং পোল্ট্রি খামারের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। স্থানীয় প্রবীণ ব্যক্তিত্ব জাফর খান বলেন: "অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে খালটিকে পূর্বের অবস্থায় ফিরিয়ে নিতে পারলে এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর হবে এবং ফসল উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।"

জিয়া থেকে তারেক: খাল খননের ধারাবাহিকতা ১৯৭৮ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সেনবাগের ৭নং মোহাম্মদপুর ইউনিয়নে এসে এই বদু গাজী খাল খনন কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর সেই উদ্যোগ থমকে যায়। বর্তমানে তাঁর উত্তরসূরী তারেক রহমান পিতার সেই অসমাপ্ত কাজ পুনরায় শুরু করেছেন। স্থানীয় বাসিন্দা একরামুল হক সোহাগ জানান, তারেক রহমানের এই উদ্যোগ সেনবাগের কৃষি ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।

দখল ও দূষণের চিত্র

সরেজমিনে দেখা যায়, ছমির মুন্সিরহাট, সেনবাগ রাস্তার মাথা, কল্যান্দী বাজার ,ভূঁইয়াদিঘী রাস্তার মাথা ও সেবারহাট বাজারের ব্যবসায়ীরা দোকানের বর্জ্য খাল ভরাট কলে পেলা  ও সেবারহাট শে-ই-বাংলা উচ্চ বিদ্যালয় সহ সহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান খাল দখল করে মার্কেট নির্মান করার কারনে খালের গতি পথ পরিবর্তন করায় খালে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওযায় জ্বলাবদ্বতা সৃষ্ঠি হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে উ্েচ্ছদ অভিযান পরিচালনা করা হলেও কিছু দিন পের দখল হয়ে যায়। স্থানীয় প্রবীণ মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, "বাজারের বর্জ্যরে কারণেই খালগুলো আজ মরণফাঁদ। "অন্যদিকে, প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ী করে যুবক সুমন জানান, একশ্রেণির প্রভাবশালী ব্যক্তি খালের জায়গা দখল করে ঘরবাড়ি ও দোকানপাট নির্মাণ করার কারনে খালগুলো মনে যাচ্ছে।

প্রশাসনের আশ্বাস

সেনবাগ উপজেলায় ছোট-বড় অন্তত ৩০টি খালের বেহাল দশা স্বীকার করে সেনবাগ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহসিয়া তাবাসসুম জানান, শিগগিরই খাল খনন কাজ শুরুর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। নকশা অনুযায়ী জমি পরিমাপ করে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেওআশ্বাস দেন তিনি।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে