মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ে ধর্ষকের পক্ষ নিয়ে গোপন সালিশ ও হুমকির অভিযোগে এক প্যানেল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কলমা বাজারে এ বিষয়ে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন এলাকার জনসাধারণ। অভিযুক্ত ব্যক্তি কলমা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ও প্যানেল চেয়ারম্যান মো. মমিনউদ্দিন হিরণ দোকানদার। বিক্ষোভকারীরা বিচারের নামে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবাকে ডেকে হুমকির অভিযোগে হিরণ দোকানদারের শাস্তি ও তাঁর সদস্য পদ বাতিলের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় জনতা ও বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত মঙ্গলবার শারীরিক প্রতিবন্ধী এক কিশোরীকে (১৬) ধর্ষণ করে আল মামুন ফরাজী (৫৫) নামে এক রাজমিস্ত্রি। এ সময় কিশোরীর মা-বাবা বাড়িতে ছিলেন না। তারা এক আত্মীয়ের মৃত্যুর খবর শুনে পাশের গ্রামে গিয়েছিলেন। এলাকাবাসী মেয়েটিকে উদ্ধার করে টঙ্গীবাড়ি উপজেলার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। অভিযুক্ত আল মামুন ফরাজী এ সময় সুযোগ বুঝে পালিয়ে যায়।
আরও জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় কলমা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হিরণ দোকানদার ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবাকে তাঁর বাড়িতে ডেকে নেন। সেখানে অভিযুক্ত মামুন ফরাজীর পক্ষ নিয়ে হিরণ দোকানদার তাঁর অনুগত লোকজন দিয়ে গোপন সালিশ বসান। সালিশে ভুক্তভোগীর রিকশাচালক বাবাকে ৩৫ হাজার টাকা নিয়ে ধর্ষণের বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দেন। এতে ওই বাবা রাজি না হলে তাঁকে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেন সালিশকারীরা। সালিশের ঘটনা জানাজানি হলে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এদিকে গত বুধবার রাতে ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে অভিযুক্ত আল মামুন ফরাজীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরদিন বৃহস্পতিবার পুলিশ স্থানীয়দের সহযোগিতায় আসামিকে আটক করে মুন্সীগঞ্জ আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠায়। লৌহজং থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, তিনি প্যানেল চেয়ারম্যান হিরণ দোকানদারের সালিশের বিষয়টি শুনেছেন। কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ভুক্তভোগীর বাবা বলেন, আমি গরিব মানুষ। তাই হিরণ মেম্বার সামান্য টাকার বিনিময়ে আমার মেয়ের ইজ্জতের দাম দিতে চেয়েছেন। আমি রাজি না হওয়ায় আমার হাত-পা ভেঙে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে প্যানেল চেয়ারম্যান হিরণ দোকানদারকে বেশ কয়েকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।