দেশজুড়ে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রসহ বৃষ্টির মধ্যে ভয়াবহ বজ্রপাতের ঘটনায় সাত জেলায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেল থেকে সন্ধ্যার মধ্যে গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, ঠাকুরগাঁও, নাটোর, পঞ্চগড় ও বগুড়ায় পৃথক এসব ঘটনায় প্রাণহানি ঘটে। অধিকাংশ নিহতই ছিলেন কৃষি কাজে মাঠে থাকা শ্রমজীবী মানুষ।
আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তনের কারণে দিনের ভ্যাপসা গরমের পর হঠাৎ করে শুরু হয় কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাত। একদিকে যেমন বৃষ্টিতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে আসে, অন্যদিকে খোলা মাঠে থাকা মানুষজনের জন্য তা হয়ে ওঠে প্রাণঘাতী। বিভিন্ন স্থানে ধান কাটা, জমিতে কাজ করা এবং চা বাগানে শ্রমরত অবস্থায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটে গাইবান্ধায়। এরপর সিরাজগঞ্জ ও জামালপুরে একাধিক মৃত্যু হয়। ঠাকুরগাঁওয়ে পৃথক ঘটনায় দুইজন নিহত হন। এছাড়া নাটোরের সিংড়া, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী এবং বগুড়ার গাবতলীতেও বজ্রপাতে একজন করে প্রাণ হারান।
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ, সাদুল্লাপুর, ফুলছড়ি ও সাঘাটা উপজেলায় একাধিক বজ্রপাতের ঘটনায় শিশু ও কৃষকসহ কয়েকজনের মৃত্যু হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের বরাতে জানা যায়, বজ্রপাতের সময় অনেকে বাড়ির পাশে, কেউ আবার খোলা মাঠে কাজ করছিলেন। আকস্মিক বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই কয়েকজনের মৃত্যু হয়, আহত হন আরও কয়েকজন।
সিরাজগঞ্জের তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের মতে, আকাশে মেঘ জমার পরপরই শুরু হয় বজ্রপাত, তখনই দুর্ঘটনা ঘটে। একইভাবে জামালপুরে রান্নার কাজ ও কৃষিকাজের সময় বজ্রাঘাতে দুইজনের মৃত্যু এবং কয়েকজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে মাঠ থেকে ফেরার পথে এবং ফসলি জমিতে কাজ করার সময় দুইজনের মৃত্যু হয়। পঞ্চগড়ে চা বাগানে কাজ করার সময় বজ্রপাতে এক শ্রমিক প্রাণ হারান। নাটোরের সিংড়ায় ধান কাটার সময় বজ্রাঘাতে এক শ্রমিকের মৃত্যু ঘটে। বগুড়ার গাবতলীতে জমিতে কাজ করতে গিয়ে মারা যান এক কৃষক।
আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, কয়েকদিন ধরে চলা তাপপ্রবাহের পর এই ধরনের বজ্রসহ বৃষ্টি মৌসুমি পরিবর্তনের অংশ হলেও, খোলা জায়গায় কাজ করার সময় বজ্রপাত বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে। তারা সতর্ক করে বলেন, বজ্রঝড়ের সময় মাঠে বা উন্মুক্ত স্থানে অবস্থান করা প্রাণঘাতী হতে পারে।
স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর প্রতি সহানুভূতি জানিয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে কৃষিকাজ ও শ্রমজীবী মানুষদের আবহাওয়া পরিবর্তনের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনায় পুরো গ্রামাঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। একদিকে বৃষ্টির স্বস্তি, অন্যদিকে প্রাণহানির বেদনা মিলিয়ে পরিস্থিতি হয়ে উঠেছে ভারী ও হতাশাজনক।