পদ্মা-মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা শেষ, রাত থেকেই নদীতে মাছ ধরা শুরু

এফএনএস প্রতিবেদক: | প্রকাশ: ১ মে, ২০২৬, ১২:২১ এএম
পদ্মা-মেঘনায় নিষেধাজ্ঞা শেষ, রাত থেকেই নদীতে মাছ ধরা শুরু

চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবারও মাছ ধরতে নামছেন জেলেরা। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১২টার পর থেকেই নিষেধাজ্ঞা শেষ হয়। সে হিসেবে জেলার অর্ধলক্ষাধিক জেলে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরতে রাত থেকেই নদীতে নামা শুরু করেছে বলে জানা গেছে। এতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে জেলেপাড়াগুলোতে ফিরে এসেছে কর্মচাঞ্চল্য।

মার্চ ও এপ্রিলজুড়ে জাটকা সংরক্ষণের জন্য অভয়াশ্রম এলাকায় মাছ ধরা পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল। সরকারের এই কর্মসূচির কারণে জেলেদের নদীতে নামা বন্ধ থাকলেও তারা এখন নতুন উদ্যমে প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেলে সদর উপজেলার পুরান বাজার, রনাগোয়াল, দোকানঘর, বহরিয়া, হরিণাঘাট ও আনন্দ বাজার এলাকায় দেখা গেছে, কেউ জাল মেরামত করছেন, কেউ নৌকা প্রস্তুত করছেন, আবার কেউ নদীতে নামানোর শেষ প্রস্তুতিতে ব্যস্ত।

জেলেরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞার সময় সংসার চালাতে কষ্ট হলেও তারা নিয়ম মেনেছেন। এখন নদীতে নামার অপেক্ষায় দিন গুনছেন সবাই। আনন্দ বাজার এলাকার জেলে মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “সরকারি নিষেধাজ্ঞা মেনেছি, কিন্তু সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। এখন আবার জাল-নৌকা প্রস্তুত করেছি নদীতে নামার জন্য।”

বহরিয়া এলাকার জেলে খোরশেদ আলম জানান, নৌকা ও জাল মেরামতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। তিনি বলেন, “ইলিশ পেলে ঋণ শোধ করা যাবে, না হলে সমস্যা হবে।” একই এলাকার ফারুক গাজী বলেন, “ঋণ করে নৌকা প্রস্তুত করেছি। ইলিশ পেলে আমাদের সংসার চলবে, না হলে কিস্তি নিয়ে বিপাকে পড়তে হবে। সরকার যে সহায়তা দিয়েছে, তা দিয়ে পুরো সংসার চলে না।”

মৎস্য বিভাগ বলছে, এবারের জাটকা সংরক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ফলে ইলিশ উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। চাঁদপুর সদর উপজেলার জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মির্জা ওমর ফারুক বলেন, “দুই মাসে ৭০ কিলোমিটার অভয়াশ্রম এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালানো হয়েছে। আইন অমান্য করে জাটকা ধরায় প্রায় দুই শতাধিক জেলেকে জেল ও জরিমানা করা হয়েছে। এতে জাটকা রক্ষা হয়েছে, যা ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে।”

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে