দুর্গাপুরে পানিতে ডুবে পচন ধরেছে পাকা ধান, কৃষকদের মাথায় হাত

এফএনএস (এস.এম রফিকুল ইসলাম; দুর্গাপুর, নেত্রকোনা) : | প্রকাশ: ১ মে, ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
দুর্গাপুরে পানিতে ডুবে পচন ধরেছে পাকা ধান, কৃষকদের মাথায় হাত

উজানে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার নিচু এলাকার বিস্তীর্ণ বিলাঞ্চলের বোরো ধান পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে জমির পর জমির পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।বৃষ্টিপাত এখন কমলেও সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা।

বৃহস্পতিবার(৩০এপ্রিল) বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনেক কৃষক গলা কিংবা কোমরসমান পানিতে নেমে কষ্ট করে ধানগাছ কাটছেন। তাদের ধানক্ষেতগুলো পানিতে তলিয়ে রয়েছে, কোথাও কোথাও পচনও ধরেছে। ফলে কৃষকদের মধ্যে হতাশা ও হাহাকার বিরাজ করছে।

কৃষকেরা বলছেন, এই ফসলই তাদের বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু আকস্মিক দূর্যোগের কারণে সেই ফসল রক্ষা করা এখন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। উপজেলার কুল্লাগড়া ইউনিয়নের চিনাকুড়িবিল এলাকার কৃষক ফজলুল ইসলাম জানান, তিনি ছয় আড়া জমিতে ধানের আবাদ করেছিলেন। এর মধ্যে মাত্র এক আড়া ধান কেটে ঘরে তুলতে পারলেও বাকি পাঁচ আড়া এখনও পানির নিচে। তিনি বলেন, কাটা ধানও টানা বৃষ্টির কারণে ঠিকমতো শুকাতে না পেরে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষক আব্দুল হেকিম বলেন, আমাদের পাকা ধান পানির নিচে থাকায় তা কাটা সম্ভব হচ্ছে না। আবার নতুন করে বৃষ্টিপাত শুরু হলে জমিতেই নষ্ট হয়ে যাবে সব। এটা আমাদের জন্য বড় ক্ষতি। সরকার আমাদের না দেখলে আমরা শেষ হয়ে যাব। রফিক মিয়া নামের আরেক কৃষক বলেন, ঋণ নিয়ে আমরা এই ফসল করেছি। আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকাসহ মোট ১৭ হাজার ৬০৮ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৮০০ হেক্টর জমির ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে প্রায় ১৪৪ হেক্টর জমির বোরো ধান বর্তমানে পানির নিচে রয়েছে।

নেত্রকোনা জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত সোমেশ্বরী নদীর বিজয়পুর পয়েন্টে পানি কমে বিপদসীমার ৫ দশমিক ৮১ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল এবং দুর্গাপুর পয়েন্টে ছিল ৪ দশমিক ১১ মিটার নিচে। তবে দুপুর ৩টার দিকে পানি বেড়ে বিজয়পুর পয়েন্টে ৫ দশমিক ৭৯ মিটার এবং দুর্গাপুর পয়েন্টে ৪ দশমিক ১৯ মিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিপা বিশ্বাস বলেন, সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে ধানের জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে পানির নিচে থাকা ধান, অন্যদিকে কেটে ঘরে তোলার পরও শুকাতে না পারায় কৃষকেরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ চলমান রয়েছে।