মহান মে দিবস উপলক্ষে সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠন “তূর্যশিকড়”-এর উদ্যোগে আয়োজিত “মানুষের শ্রম, মানুষের জয়” শীর্ষক বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানটি গতকাল ১লা মে সন্ধ্যায় রাজধানীর ছায়ানট মূল মিলনায়তন-এ অনুষ্ঠিত হয়। এই আয়োজন ছিল দর্শক-শ্রোতাদের জন্য এক প্রাণবন্ত ও মননশীল অভিজ্ঞতা। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও সংস্কৃতিকর্মী মফিদুল হক। তিনি তাঁর বক্তব্যে তূর্যশিকড়ের এই আয়জন বাঙালি সংস্কৃতির শিকড়কে আরও দৃঢ় করবে। সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধ বোধ জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি তূর্যশিকড়ের এ আয়োজনকে সময়োপযোগী বলে উল্লেখ করেন। অনুষ্ঠানে গান, নৃত্য, আবৃত্তি ও নাটকের সমন্বয়ে এক মনোরম প্রযোজনা উপস্থাপিত হয়। বিশেষ করে কবিতা ও গানে শ্রমজীবী মানুষের বঞ্চনা, অধিকার আদায়ের সংগ্রাম এবং তাদের জীবন বাস্তবতা শক্তিশালীভাবে তুলে ধরা হয়। তূর্যশিকড়ের নিজস্ব নৃত্য, কবিতা ও গানের পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।পাশাপাশি অংশগ্রহণকারী অন্যান্য সাংস্কৃতিক দল জলতরঙ্গ,স্বনন ঢাকা,নৃত্য নিকেতন ,গানের তরী বাংলাদেশ,ঢাকা ড্যান্স এন্ড আর্ট সেন্টার ও মুক্তধারা নাট্য সম্প্রদায়ের পরিবেশনাও ছিল নান্দনিক ও প্রশংসনীয়। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষক সারওয়ার হোসেন ,সাংস্কৃতিক সংগঠক সৈয়দ সিদ্দিকুর রহমান ও শিক্ষক, গবেষক, ও সংগঠক মিরুনা বানু তাদের সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তূর্যশিকড়ের স্বতন্ত্র এই সাংস্কৃতিক আন্দোলন কে সমসাময়িক প্রেক্ষাপট ও মহান মে দিবসে তার প্রাসংগিকতা নিয়ে আলোচনা করেন । স্বাগত বক্তব্য রাখেন সংগঠনের উপদেষ্টা লেখক ও সংগঠক জনাব মাহফুজুর রহমান । অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে তূর্যশিকড়ের সভাপতি সুমনা শিল্পী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিদের সম্মাননা স্মারক, উত্তরীয় ও উপহার প্রদান করেন। তিনি সকল শিল্পী ও সহযোগীদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও শুভেচ্ছা জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সৃজনশীল উদ্যোগ অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সুমনা শিল্পী জানান যে, সুস্থ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে শ্রমজীবী মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ,শিশু কিশোরদের মানসিক বিকাশ এবং সমাজে মানবিক চেতনা জাগ্রত করার প্রচেষ্টা আগামী দিনগুলোতেও অব্যাহত থাকবে।