জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ ভালো নেই। সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা অবস্থা এবং বিচার ব্যবস্থার নানা বিষয়ে তার দলের অবস্থান আসন্ন বাজেট অধিবেশনে জনগণের পার্লামেন্টেই তুলে ধরা হবে।
মঙ্গলবার সিলেটের বাদাঘাট এলাকায় নির্যাতনে নিহত শিশু ফাহিমা আক্তারের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের প্রথম ১০০ দিনের কার্যক্রম সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এ মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে এটুকু বলা যায়, মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ ভালো নেই। আগামী ৭ জুন থেকে শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনে তার দল সরকারের কর্মকাণ্ড, অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সামগ্রিক প্রশাসনিক বিষয় নিয়ে বিস্তারিত বক্তব্য উপস্থাপন করবে।
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, এক মাসের ব্যবধানে তেলের মূল্য বৃদ্ধি জনগণের ওপর এক ধরনের জুলুম। সংসদে আলোচনা না করেই রাতের আঁধারে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা জনগণের সঙ্গে প্রতারণার শামিল। তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হলে তা সংসদে আলোচনা করেই করা উচিত ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ফাহিমা হত্যা মামলার বিচার প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রিতার দিকে গেলে মানুষ ধরে নেবে বিচার হবে না। তিনি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তদন্ত দ্রুত শেষ করে অভিযোগপত্র দাখিল এবং বিচার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান প্রশাসনের প্রতি।
তিনি বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি সমাজে অপরাধকে উৎসাহিত করে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধকে দুর্বল করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনারও আহ্বান জানান তিনি।
ফাহিমার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি শিশুর এমন নির্মম মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো সমাজের জন্য বেদনাদায়ক। তিনি স্থানীয় জনগণকে পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান এবং জানান, তার দল আইনগত ও মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
তিনি বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষের উচিত রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মজলুম ও নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো, যাতে আর কোনো বাবা-মাকে সন্তানের হত্যার বিচার চেয়ে অসহায়ভাবে অপেক্ষা করতে না হয়।