এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জেলার গৌরনদী উপজেলার জঙ্গলপট্টি গ্রামে স্থানীয় বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলায় চারজন আহত ও একটি বসতঘর ভাঙচুর করা হয়েছে। সোমবার দিবাগত রাত নয়টার দিকে হামলা ও পাল্টা হামলায় গুরুত্বর আহত তিনজনকে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় ও আহত সূত্রে জানা গেছে, এলাকার আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি নেতা ও সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ফকিরের সাথে একই গ্রামের যুবদল কর্মী মিরাজুল ও জাহিদুল সিকদারের দ্বন্ধ চলে আসছে। ওই দ্বন্ধের জেরধরে সোমবার সন্ধ্যায় মিরাজুল ও জাহিদুলের ভাড়াটিয়া লোকজনে বিএনপি নেতা নজরুল ফকিরকে মারধর করে। এরপর রাত নয়টার দিকে নজরুলের লোকজন পাল্টা হামলা চালায়। এসময় দুইপক্ষের মহড়ায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পরে।
যুবদল কর্মী মিরাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, সোমবার সন্ধ্যায় কে বা কারা সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ফকিরকে মারধর করেছে তা আমরা জানিনা। কিন্তু নজরুল ওই ঘটনায় আমাদের দায়ী করেন। পরবর্তীতে রাত নয়টার দিকে নজরুলের লোকজনে আমার (মিরাজুল) বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করে নগদ লক্ষাধিক টাকা ও তিন ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে যায়। এসময় হামলাকারীদের লুটপাটে বাঁধা দেওয়ায় আমার বৃদ্ধ পিতা আতাহার সিকদারকে কুপিয়ে গুরুত্বর জখম এবং মা রাশিদা বেগমকে পিটিয়ে আহত করা হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউপি সদস্য নজরুল ফকির বলেন, সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলযোগে বাসায় ফেরার সময় জঙ্গলপট্টি মাদ্রাসার সামনে পৌঁছলে যুবদল কর্মী মিরাজুল ও জাহিদুল সিকদার এবং তাদের সাথে থাকা হিরা সরদার আমার পথরোধ করে ব্যাপক মারধর করে সাথে থাকা এক লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়। একইসময় হামলাকারীরা আমার কাছে আরো পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। খবরপেয়ে আমার মেঝ ভাই আজিবর ফকির আমাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসলে তাকেও পিটিয়ে গুরুত্বর আহত করা হয়। স্থানীয়রা আমদের দুই ভাইকে উদ্ধার করে বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি করেছেন।
গৌরনদী মডেল থানার ওসি মো. ইউনুস মিয়া বলেন, খবরপেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।