কাহারোলে কৃষি আবাদী জমির টপসয়েল কাটায় ব্যবহৃত হচ্ছে

এফএনএস (মোঃ আব্দুল্লাহ; কাহারোল, দিনাজপুর) : | প্রকাশ: ১৪ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:১৩ এএম
কাহারোলে কৃষি আবাদী জমির টপসয়েল কাটায় ব্যবহৃত হচ্ছে

দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় তিন ফসলী কৃষি আবাদী জমির টপসয়েল কাটায় ব্যবহৃত হচ্ছে ফসল উৎপাদন হুমকিতে উর্বরতা ও পরিবেশ। দিনের পর দিন থেমে নেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তিন ফসলী আবাদী জমির উপরিভাগের উর্বর মাটি বা টপসয়েল অবাধে কেটে ইট-ভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একাধিক জমির উর্বরতা শক্তি নষ্ট হয়ে ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। অন্যদিকে, পরিবেশ ও জীব বৈচিত্র মারাত্মক ঝুকির মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, যে সব জমির টপসয়েল কাটা হচ্ছে সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে অন্ততঃ ১ দশকের বেশী সময় লাগবে। মাঠ পর্যায়ে এর প্রভাব পড়েছে সেচ ব্যবস্থা ও চাষাবাদে। যার ফলে আশেপাশের জমির মালিকেরাও চাপের মুখে পড়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ একটি প্রভাবশালী চক্র সিন্ডিকেটের মধ্যমে কৃষকদের মাটি বিক্রি করতে বাধ্য করছেন। প্রথমে মাঠের মাঝখানের মাটি কেটে নেওয়া হয় এতে পাশের জমিগুলো নিচু হয়ে যাওয়ায় সেঁচ ও চাষাবাদে সমস্যা দেখা দেয়। ফলে আশেপাশের জমির মালিকেরা শেষ পর্যন্ত বাধ্য হয়ে মাটি বিক্রি করেন। পরিবেশ অধিদপ্তর দিনাজপুর জেলা সূত্রে জানা যায়, কাহারোল উপজেলায় ১০টি ইট-ভাটায় ইট তৈরীর জন্য তিন ফসলী আবাদী জমির উর্বর মাটি ব্যবহার করা হচ্ছে। উপজেলার ডাবর ইউনিয়নের ১টি ইট-ভাটার টেকনিশিয়ান নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, মাটি ছাড়া ইট তৈরী করা সম্ভব নয়। তাই রাতের আধারে উঁচু ফসলী জমি থেকে মাটি কেটে ভাটায় আনতে হয়। উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের কৃষক মফিজউদ্দীন জানান, এক বিঘা জমির উপর টপসয়েল ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। শুরুতে লাভজনক মনে হলেও পরবর্তী বছর ভালো ফসল পাওয়া যায় না। দিনাজপুর জেলা মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মোঃ মামুল আল আহসান চৌধুরী বলেন, টপসয়েলে জৈব উৎপাদন ও অনুজীবী সবচেয়ে বেশী থাকে। এই স্তরটি সরিয়ে নিলে জমির উর্বরতা ফিরতে এক দশকেরও বেশী সময় লাগবে। কাহারোল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান বলেন, এভাবে মাটি কাটার ফলে ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।  দিনজপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক বদরুন নাহার সীমা জানান, বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসনকে অবহিত করা হয়েছে এবং বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হয়েছে ও মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা  করা হয়েছে।  কাহারোল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোকলেদা খাতুন মীম বলেন, কৃষি জমি থেকে টপসয়েল কাটা বন্ধে উপজেলা প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে।