শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের পদত্যাগ, বৈরি আবহাওয়ার কারণে এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত এবং প্রশ্নপত্রের ত্রুটি সংশোধনের দাবিতে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড ঘেরাও করেছেন শিক্ষার্থীরা।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী শিক্ষা বোর্ডের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এর পর থেকে তারা শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে নানা স্লোগান দেয়। দুপুরে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধিদল বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শামীম আরা চৌধুরীর কাছে একটি স্মারকলিপি দেয়। এরপর স্লোগান থামলেও শিক্ষার্থীরা বোর্ডে অবস্থান করছে।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে বন্যা ও জলাবদ্ধতার মধ্যেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। এতে হাজারো পরীক্ষার্থী চরম দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। অনেকেই ভিজে কাপড়ে পরীক্ষা দিয়েছেন, আবার কেউ সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেননি। তাদের দাবি, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের মতো সারাদেশের সব বোর্ডের পরীক্ষাও সাময়িকভাবে স্থগিত করা হোক এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরীক্ষা নেওয়া হোক।
শিক্ষার্থীরা আরও বলেন, সাম্প্রতিক পরীক্ষা গুলোর প্রশ্নপত্রে একাধিক ত্রুটি রয়েছে। বিশেষ করে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রে ভুল প্রশ্ন থাকায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রশ্নপত্রের মান শিক্ষার্থীবান্ধব নয় বলেও অভিযোগ করেন তারা। তাদের ভাষ্য, পাঠ্যসূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রশ্ন প্রণয়ন করতে হবে এবং ভর্তি পরীক্ষার মতো কঠিন প্রশ্ন দিয়ে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করা উচিত নয়।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব চলতে পারে না। তারা অভিযোগ করেন, নতুন প্রশ্নপত্রের ধরন ও পরীক্ষা পদ্ধতি শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই বাস্তবায়ন করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন না করে শুধু পরীক্ষার ধরন পরিবর্তনের বিরোধিতাও করেন তারা।
বিক্ষোভ চলাকালে শিক্ষার্থীরা জানান, তাদের প্রধান তিনটি দাবি হলো শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ, বৈরি আবহাওয়ায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত এবং প্রশ্নপত্রের ত্রুটির জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া। পাশাপাশি ১৩ জুলাইয়ের পরীক্ষায় বৈরি আবহাওয়ার কারণে যারা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য বাস্তব সম্মত সমাধান চেয়েছেন তারা।
কয়েকজন শিক্ষার্থীকে নিয়ে প্রতিনিধি দল রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে প্রবেশ করে। সেখানে বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সচিবের সঙ্গে আলোচনায় বসেন তারা। শিক্ষার্থীরা বলেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।আলোচনার সময় বোর্ড কর্মকর্তারা সীমিতসংখ্যক প্রতিনিধিকে কথা বলার সুযোগ দেন। শিক্ষার্থীরা সেখানে বন্যা পরিস্থিতি, প্রশ্নপত্রের ত্রুটি, পরীক্ষা স্থগিত এবং শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি পুনর্ব্যক্ত করেন।