ঈশ্বরদীতে ৪ শিক্ষক দিয়ে চলে ৫'শ শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যবস্থা

এফএনএস (সেলিম আহমেদ; ঈশ্বরদী, পাবনা) : | প্রকাশ: ২ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১৫ এএম
ঈশ্বরদীতে ৪ শিক্ষক দিয়ে চলে ৫'শ শিক্ষার্থীর শিক্ষা ব্যবস্থা

পাবনার ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ফতেমোহাম্মদপুরে প্রায় ৫'শ শিক্ষার্থীর জন্য প্রধান শিক্ষকসহ মাত্র শিক্ষক রয়েছে চারজন। শিক্ষক সংকটের কারণে পাঠদান চরম ভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া নেই কোন অফিস সহকারী। প্রধান শিক্ষক ও অফিস  সহকারি না থাকায় প্রশাসনিক কাজও ঠিকমতো শেষ হয় না। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঈশ্বরদী রেল জংশন স্টেশন ও ফতেমোহাম্মদপুরে লোকোমোটিভ ডিজেল রানিং সেড থাকায় এ এলাকায় রেলওয়ে স্টাফ কোয়াটার গড়ে তোলা হয়। এ কারণে ফতেমোহাম্মদপুর লোকো কলোনি নামেও পরিচিত। এসব কোয়াটারে রেল কর্মচারীরা বসবাস করার কারণে বিদ্যালয়টিতে রেল স্টাফদের ছেলে-মেয়ে বেশি ছিল। এ কারণে বিদ্যালয়টি বাংলাদেশ রেলের আওতাধীন করা হয়।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৫২ সালে এই বিদ্যালয়টি ঈশ্বরদী পৌর এলাকার ফাতেমোহাম্মদপুরে প্রতিষ্ঠিত হয়। ৭৪ বছর আগে তৈরি হলেও বিদ্যালয়টিতে রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। বিদ্যালয়ের সামনের সড়ক দিয়ে  যাওয়ার সময় এক ঝলক দেখতে চোখ ফেলতে হয় ভবনের দিকে। শিক্ষার্থীর সংখ্যা অনুপাতে শিক্ষকের সংখ্যা একেবারেই নগণ্য। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫০০ জন। আর শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র চার জন। এরমধ্যে একজনকে (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১২৪ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছে মাত্র একজন। ব্রেঞ্চ সংকটও রয়েছে। বিদ্যালয়টিতে মঞ্জুরীকৃত পদের সংখ্য ২৮টি। এর মধ্যে প্রধান ও সহকারী প্রধান শিক্ষক ছাড়াও সহকারি এবং জুনিয়র শিক্ষকের পদ রয়েছে ১৯ টি।

সূত্র আরও জানায়, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকসহ দুইজন বিজ্ঞানের শিক্ষক, অংক, রসায়ন, পদার্থ, জীববিদ্যা ও বিজ্ঞান বিষয় পাঠদান করাচ্ছেন। লাইব্রেরী থাকলেও নেই লাইব্রেরিয়ান, বিজ্ঞানাগারের অবস্থা একই। একজন নিরাপত্তা কর্মী ও একজন পরিচ্ছন্ন কর্মী থাকলেও অফিস সহকারীর দুটি পদই শূন্য । বিদ্যালয়ের শিক্ষকের সঙ্গে কথা বলে  জানা যায়, রেলওয়ে নাজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত পাঠদান করানো হয়। নবম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩৮ জন। তাদের বিজ্ঞান ও ইতিহাস বিষয়ে পাঠদান করানো হয়। বাকি ক্লাসের শিক্ষার্থীদের সিলেবাস অনুযায়ি পাঠদান করানো হয়ে থাকে। বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মনোয়ার শেখ জানান, শিক্ষক স্বল্পতার কারণে পাঠদানে চরম বেগ পেতে হয়। এভাবে দিনের পর দিন একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান করানো যায় না।  বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক (ভারপ্রাপ্ত) মো: কামরুল ইসলাম বলেন, ২০১২ সাল থেকে শিক্ষক সংকট শুরু হয়। অবসরে যাওয়ার পর শিক্ষকের পরিবর্তে শিক্ষক প্রদায়ন করা হয়নি। এভাবে পর্যায়ক্রমে শিক্ষক শংকট এখন চরমে পৌঁছে গেছে।  তিনি জানান, অফিস  সহকারি না থাকায় প্রশাসনিক কাজেও নানা সমস্যা হয়। এসব সমস্যার কথা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। 

রেলওয়ে পাকশী বিভাগীয় কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক (ডিআরএম) ও রেলওয়ে নাজিম উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবু হেনা মোস্তফা আলম

বলেন, আমাদের স্কুলগুলো সিপিও দপ্তর থেকে পরিচালিত হয়ে থাকে। রেলের নিয়োগে একটু জটিলতা থাকার কারণে বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংকট রয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে শিক্ষক সংকট সমাধানে আলোচনা হয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে