প্রাচ্যের ভেনিসখ্যাত বরিশাল নগরী ঘেষা কীর্তনখোলা নদীর তীরে অবস্থিত বরিশালকে একটি আধুনিক, পরিকল্পিত বাণিজ্যিক ও পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সমন্বিত মহাপরিকল্পনা গ্রহণের প্রস্তাব দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপির বরিশাল মহানগর শাখার সদস্য সচিব এম আনোয়ার হোসেন সিকদার।
বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার কৌশলগত পরিকল্পনা উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে গত ৯ আগস্ট অনুষ্ঠিত সেমিনারে আনোয়ার হোসেন সিকদার তার বক্তব্যে বলেন-কীর্তনখোলা নদীর দুই তীরকে বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করে বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়ে একটি বাস্তবমুখী ও দীর্ঘমেয়াদী মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে কীর্তনখোলা নদীকে কেন্দ্র করে বরিশালকে আধুনিক বাণিজ্যিক ও পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
তিনি বলেন, নদীর দুই তীরে পরিকল্পিত অবকাঠামো, আধুনিক যোগাযোগব্যবস্থা, পর্যটনকেন্দ্র ও বিনোদন সুবিধা গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে নদীকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হবে। তবে নগরীর পরিবেশ ও বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে বৃহৎ শিল্প-কারখানা ও শিল্পাঞ্চল বরিশাল মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে পরিকল্পিত শিল্প জোন স্থাপন করা উচিত বলে তিনি মত দিয়েছেন। এসব শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে বরিশাল নগরীর কার্যকর যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করার পাশাপাশি নগরকেন্দ্রে শিল্পের প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রাখা যেতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, নগরীর দাপ্তরিক, প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য বহুতল ভবন ও আধুনিক অফিস কমপ্লেক্স নদীর দুই তীরকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। এতে একদিকে যেমন নগরীর সৌন্দর্য ও নান্দনিকতা বৃদ্ধি পাবে, অন্যদিকে কীর্তনখোলা নদীকে কেন্দ্র করে একটি আধুনিক বাণিজ্যিক নগরকেন্দ্র গড়ে উঠবে।
আনোয়ার হোসেন সিকদার বলেন, পরিকল্পিতভাবে আবাসিক, বাণিজ্যিক, প্রশাসনিক, পর্যটন ও শিল্পাঞ্চল নির্ধারণ করা গেলে বরিশালের জন্য একটি বাস্তবমুখী, টেকসই ও দীর্ঘমেয়াদী নগর উন্নয়ন কাঠামো তৈরি করা সম্ভব। কীর্তনখোলা নদীকে কেন্দ্র করে দুই তীরের সমন্বিত উন্নয়নের মাধ্যমে বরিশালকে দেশের অন্যতম আধুনিক বাণিজ্যিক ও পর্যটন নগরীতে রূপান্তর করাও তার বক্তব্যে তুলে ধরেন। বিসিসিকে আধুনিক ও বাণিজ্যিক নগরীতে রূপ দিতে পূর্ণাঙ্গ প্রস্তাব শীঘ্রই দেয়া হবে বলে জানিয়েছেন বরিশাল মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব এম আনোয়ার হোসেন সিকদার।