ঈশ্বরদীতে প্রতিদিন শ্রম বিক্রির হাটে বিক্রি হয় কয়েক হাজার শ্রমিক

এফএনএস (সেলিম আহমেদ; ঈশ্বরদী, পাবনা) :
| আপডেট: ১০ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম | প্রকাশ: ১০ আগস্ট, ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
ঈশ্বরদীতে প্রতিদিন শ্রম বিক্রির হাটে বিক্রি হয় কয়েক হাজার শ্রমিক

পাবনার ঈশ্বরদীতে মৌসুমী সবজি চাষে বরাবরই জেলার শীর্ষে অবস্থান উপজেলা শহর ঈশ্বরদীর। ফুলকপি, বাধাকপি, শিম, গাজর, মুলা, করলা, বরবটি, পটল, ঝিঙে, কাকরোল, পেঁয়াজ, পেঁপে, লালশাক, পুঁইশাক ইত্যাদিসহ মৌসুমী সকল সবজিতেই নিজেদের শীর্ষস্থান দখল করে রেখেছে এ অঞ্চলের কৃষকেরা। সেই লক্ষে কাক ডাকা ভোর থেকে শুরু হয় কৃষি মাঠে কৃষকদের কর্মযজ্ঞ। সেই কর্মযজ্ঞের জন্য প্রতিদিন প্রয়োজন হয় বাড়তি কাজের লোক। যা স্থানীয় শ্রমিক দিয়ে পূরণ হয়না। সেই বাড়তি লোকের চাহিদা মেটাতেই পার্শ্ববর্তী জেলা নাটোরের লালপুর ও স্থানীয় কৃষকদের সমন্বয়ে বসে জমজমাট শ্রমিক বিক্রির হাট। যেখান থেকে গৃহস্থরা তাদের চাহিদা মতো শ্রমিক নিতে পারেন দরকষাকষির মাধ্যমে।

উপজেলা বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, শহরের রেলওয়ে গেট, সাঁকড়েগাড়ী, বড়ইচরা এবং ভাড়ইমারী আনন্দ বজারে বসে এই শ্রমিক কেনা বেচার হাট। যেখানে প্রতিদিন ভোর ৫ টা থেকে সকাল ৭ টা পর্যন্ত কয়েক হাজার শ্রমিক কেনা বেচা হয় এই বাজার গুলোতে। কাজের প্রকার ভেদে এই বাজারে আসা শ্রমিকদের শ্রমম্ল্যূ নির্নয় করেন শ্রমিক আর গৃহস্থ উভয় মিলেই। এসব হাটে প্রতিদিন বিক্রি হয় কয়েক হাজার শ্রমিক।

শ্রম বাজার থেকে শ্রমিক (দিন মজুর) নিতে আসা কৃষক লুৎফর বিশ্বাস জানান, মাঠে আমাদের নানা জাতীয় ফসল রয়েছে। এই ফসলের ঠিকঠাক পরিচর্যা করতে প্রত্যহ প্রয়োজন হয় শ্রমিকের। আমাদের এলাকাতে শ্রমিকের সংকট থাকায় আমরা এই বাজার থেকে প্রয়োজন অনুসারে শ্রমিক নিয়ে যাই।

কৃষক রাশেদুল প্রামানিক বলেন, এলাকার শ্রমিকদের থেকে শ্রম বাজারে শ্রমিক পাওয়া যায় তুলনামূলক কম দামে। শুধু তাই নয়, এখান থেকে চাহিদা অনুসারে দেখে শুনে শ্রমিক নেয়া যায়। প্রত্যহ পাওয়া যায় বলে চাষাবাদে আমাদের নির্ভরতা বেড়েছে বহুগুনে। কাজে আসা শ্রমিক বাবুল আক্তার বলেন, আমাদের এলাকায় (নাটোর-লালপুর) কাজ কম থাকায় আমরা ঈশ্বরদীতে চলে আসি। হাজিরা প্রতিদিন পরিবর্তন হলেও এখানে প্রতিদিনই কাজ মেলে। গৃহস্থরা খেতে দেন বলে খাবার নিয়েও চিন্তা করতে হয়না। এই বাজারে শ্রম বিক্রির জন্য আমরা বাড়ি থেকে রওনা দেই শেষ রাতের দিকে। 

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আব্দুল মমিন বলেন, সকালের শ্রমিকদের এই হাট নিঃসন্দেহে অত্র আঞ্চলের কৃষকদের জন্য আর্শিবাদ স্বরুপ। কেকনা শ্রমিক সংকটের এই বাজারে অন্য জেলার শ্রমিকদের সমন্বয়ে বসা এই হাটের জন্য আমাদের এলাকার কৃষক ভাইয়েরা সহজেই কাজের জন্য শ্রমিক পাচ্ছে। যেটা তাদের ফসল উৎপাদনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে