রাজশাহীর তানোরে ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর সুপারভাইজার ও তথ্যসংগ্রহকারী নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) নাঈমা খানের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচী পালান করেছে বিএনপির নেতৃবৃন্দ। একই সঙ্গে মানববন্ধন থেকে প্রকাশিত নিয়োগ তালিকা বাতিল করে পুনরায় স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন নেতাকর্মীরা।
সোববার (১০ আগস্ট) দুপুরে তানোর উপজেলা পরিষদ চত্বরে এসব কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এসময় বক্তারা ইউএনওর বিরুদ্ধে দলীয় পক্ষপাতিত্ব, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার ফ্যামিলি কার্ড শুমারি-২০২৬-এর জন্য পুরো উপজেলায় ৯৬ জন তথ্য সংগ্রহকারী ও ৯ জন সুপারভাইজারের নিয়োগের তালিকা প্রকাশ করা হয়।
প্রতিবাদ সমাবেশে তানোর উপজেলা যুবদলের যুগ্ন-আহবায়ক মাহাফুজুর রহমান রিমন বলেন, নীতিমালা অনুসরণ না করে একটি পক্ষের প্রভাবিত হয়ে সুপারিশের ভিত্তিতে বৈষম্যমূলকভাবে ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমরা এ নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
উপজেলা যুবদলের আরেক যুগ্ন-আহবায়ক রায়হানুল হক বলেন, প্রশাসনিক দায়িত্বে থেকে দলীয় পক্ষপাতিত্ব বন্ধ না করলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
তানোর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ন-আহবায়ক শহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা কিছুদিন আগে ইউএনওর সঙ্গে দেখা করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু প্রকাশিত তালিকায় অযোগ্য ব্যক্তি, ছাত্রলীগের কর্মীদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ তালিকা বাতিল না করলে আগামীতে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
এসময় আরো উপস্থিত ছিলেন, তানোর উপজেলা ছাত্রদলের সদস্যসচিব মোতালেব হোসেন, তানোর উপজেলা জিয়া মঞ্চের আহবায়ক রাসেল আহম্মেদ, সদস্যসচিব এএসএম কিবরিয়া (প্রিন্স), কামারগাঁ ইউপির যুবদলের ওয়ার্ড সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন সাগরসহ আরো অনেক দলীয় নেতাকর্মীরা।
তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করে তানোর ইউএনও নাঈমা খান বলেছেন, ফ্যামিলি কার্ডের তথ্যসংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার নিয়োগে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা অনুসরণ করে ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। এখানে অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই। কিন্তু কারও নিয়োগে কোনো অসংগতি পাওয়া গেলে তাকে বাদ দিয়ে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে যোগ্যপ্রার্থী নেওয়া হবে বলে জানান ইউএনও।