নাসিরনগর-মাধবপুর সড়ক যেন ‘মৃত্যুফাঁদ’

এফএনএস (আক্তার হোসেন ভূইয়া; নাসিরনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া) : | প্রকাশ: ২৫ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:০৯ পিএম
নাসিরনগর-মাধবপুর সড়ক যেন ‘মৃত্যুফাঁদ’

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর-মাধবপুর সড়কের বেহাল দশায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। খানাখন্দে ভরা এ সড়ক দিয়ে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আবার কোথাও কোথাও পায়ে হেঁটেও চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

বতর্মানে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি গর্তে জমে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে । স্থানীয়দের অভিযোগ,দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এনিয়ে চলতি বছরের ১৯ মার্চ"২৬  দৈনিক ইত্তেফাকে  সংবাদ প্রকাশের পর সড়ক মেরামতের কাজ শুরু হয়ে আবার আকস্মিক বন্ধ হয়ে যাওয়ার জনদুর্ভোগ চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারনে এই অচলাবস্থার মূল কারণ।

বিশেষ করে নাসিরনগর থেকে মাধবপুর পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ আঞ্চলিক সড়কটি এখন প্রায় মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ এই সড়ক ব্যবহার করলেও বছরের পর বছর সংস্কারের অভাবে এর অবস্থা চরম বেহাল।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতাধীন এ সড়কে প্রতিদিন ঘটছে দুর্ঘটনা। সামান্য বৃষ্টিতেই গর্তে পানি জমে থাকে,ফলে যান চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে। সড়কে গর্তে চাকা পড়লেই যানবাহন উল্টে যাচ্ছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করছেন দুই উপজেলার অগণিত মানুষ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নুরপুর,চৈয়ারকুড়ি, শ্যামপুর, বেলুয়া, নরহা, হরিণবেড় ও হরিপুরসহ বিভিন্ন স্থানে সড়কটির বেশিরভাগ ভেঙে খানা-খন্দের সৃষ্টি হয়েছে। সড়কের শুধু কার্পেটিং নয়, পাথর,অনেক জায়গায় খোয়া ও বালি পযর্ন্ত উঠে গেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। বড় বড় গর্তের ফলে একদিন বৃষ্টি হলেই প্রায় এক সপ্তাহ  পানি জমে থাকে। তখন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়ে। ঘটতে থাকে দুর্ঘটনা।  স্থানীয়দের কেউ কেউ রসিকতা করে সড়কটির নাম দিয়েছেন ‘কোমড়ভাঙা রোড’।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মোমেন জনদুর্ভোগের কথা স্বীকার করে জানান,ঠিকাদারের ব্যর্থতায় কাজ বন্ধ রয়েছে। এবিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হলেও সে কোন কর্ণপাত করছে না। এ বিষয়ে দ্রুতই ঠিকাদারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া  হবে। তাছাড়া মাননীয় সংসদ সদস্যও এ রাস্তার বিষয়ে মহান জাতীয় সংসদে সমস্যার কথা তুলে ধরেছেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে