রংপুরে অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হত্যার ঘটনায় দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি উঠেছে। নিহত গণপতি চক্রবর্তী ও তার ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর স্মরণে মঙ্গলবার রংপুর জিলা স্কুলে আয়োজিত স্মরণসভায় শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ দাবি জানান। একই দিন নিহত গণপতির বড় ভাই ও মামলার বাদী গোপীনাথ চক্রবর্তী দাবি করেছেন, মাত্র দুজনের পক্ষে একই পরিবারের চারজনকে হত্যা করা সম্ভব নয়। তার ধারণা, এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে আরও বড় কোনো শক্তি থাকতে পারে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে রংপুর জিলা স্কুল প্রাঙ্গণে নিহতদের স্মরণে প্রার্থনা ও স্মরণসভার আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
স্মরণসভায় নিহত গণপতি চক্রবর্তী ও তার ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর স্মৃতিচারণ করেন শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। প্রিয়ম চক্রবর্তী রংপুর জিলা স্কুলের শিক্ষার্থী ছিলেন। এ সময় বক্তারা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত জড়িতদের শনাক্ত করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। রংপুর জিলা স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘গণপতি চক্রবর্তী ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে ব্যথিত। তিনি একজন সজ্জন ও বিনয়ী মানুষ ছিলেন। তার ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তী আমাদের বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থী ছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘গণপতি শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবার কাছেই অত্যন্ত গ্রহণযোগ্য ছিলেন। আমরা চাই, এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা হোক। জেলা প্রশাসন ও পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিশ্চয়ই এ বিষয়ে কাজ করছে। আমরা দ্রুত বিচার চাই এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাই।’এ সময় বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরাও বক্তব্য দেন।
এদিকে মঙ্গলবার দুপুরে নগরীর মাছুয়াপাড়ায় নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়িতে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে প্রতিবেদকের সাথে কথা বলেন মামলার বাদী ও নিহতের বড় ভাই গোপীনাথ চক্রবর্তী। হত্যাকাণ্ডে দুই আসামির সম্পৃক্ততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘সন্দেহটা ওই জায়গায় যে দুইটা লোকের পক্ষে এই হত্যাকাণ্ড করা সম্ভব নয়। চারটে মানুষ দুইজন লোক মারবে, আর মেরে তারা সুস্থভাবে থাকবে, বাড়িতে বসে থাকবে, ঘুমাবে। এটা কখনোই সম্ভব নয়।’ হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কারও সম্পৃক্ততার আশঙ্কা প্রকাশ করে গোপীনাথ চক্রবর্তী বলেন, ‘একটা মানুষ খুন করা চাট্টিখানি কথা নয়। এর পেছনে কোনো বড় শক্তি আছে, অলক্ষ্যে, আড়ালে।’ তদন্ত নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘লোকজন তো বলছে, বিদ্যুৎ আগে বন্ধ করে দিয়েছে। এখন কী যে হবে, যেটা হবে সেটা তো মেনে নিতে হবে। আমরা তো তদন্ত করার কেউ না। প্রশাসন একটার পর একটা যদি ব্যর্থ হয়ে যায়, তো করার কী আছে?’
তবে নির্দিষ্ট কারও বিরুদ্ধে তার সন্দেহ আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘না, সেটা আমার নেই। কারণ আমি তো কাউকে চিনি না। আমি তো দূরে থাকি। সংঘর্ষ বা কোনো ক্যাচালের কথাও শুনিনি। খুব ভালো মানুষ ছিল। মানুষ এত ভালো হয় না।’ মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে নিহত গণপতি চক্রবর্তীর বাড়ির উঠানে শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এ সময় ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী গীতা পাঠ করা হয়। পরিবারের সদস্য ও স্বজনদের সেখানে শোকাহত অবস্থায় দেখা যায়। এর আগে রংপুর নগরীর মাছুয়াপাড়ার একটি বাড়ি থেকে গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী এবং দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যা মামলা হয়েছে এবং পুলিশ ইতোমধ্যে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।