শরণখোলায় মাদ্রাসা ছাত্রকে শিক্ষকের মারধর হাসপাতালে ভর্তি

এফএনএস (সাবেরা ঝর্ণা; শরণখোলা, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ২৮ আগস্ট, ২০২৬, ০৬:৩৫ পিএম
শরণখোলায় মাদ্রাসা ছাত্রকে শিক্ষকের  মারধর হাসপাতালে ভর্তি

বাগেরহাটের শরণখোলায় দারুস সুন্নাহ নামের একটি আবাসিক মাদ্রাসায় মো : আজিজুল (৭) নামে এক শিক্ষার্থীকে শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। পড়া না পারার কারনে ওই মাদ্রাসারই শিক্ষক মো. কামরুল ইসলাম শিশুটিকে বেত ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন  বলে অভিযোগ করা হয়েছে পরিবারের পক্ষ থেকে।

গুরুতর আহত শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় শুক্রবার (২৮ আগস্ট)  শরণখোলা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে পরিবার।  আহত আজিজুল উপজেলার রায়েন্দা ইউনিয়নের পশ্চি খাদা গ্রামের সুজন হাওলাদারের  ছেলে।

স্বজনদের অভিযোগ, হাফিজি পড়ানোর জন্য আজিজুলকে আবাসিক ছাত্র হিসেবে দারুস সুন্নাহ মাদ্রাসায় ভর্তি করানো হয়। গত ২৫ আগস্ট বিকালে পড়া না পারায় শিক্ষক কামরুল ইসলাম তাকে বেত ও প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে বেধড়ক মারধর করেন। এতে শিশুটির শরীরের বিভিন্নস্থানে কালশিটে দাগ পড়ে যায়। মারধরের পর ব্যথায় রাতে ঘুমাতেও পারছিলনা বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

শিশুটির মামাতো ভাই রাকিবুল আকন অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দুইদিন পার হলেও মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ শিশুটির শারীরিক অবস্থার কোনো খোঁজ নেয়নি। এমনকি তাকে চিকিৎসা দেওয়া বা পরিবারকে জানানোরও কোনো উদ্যোগ না নিয়ে  গোপন রাখে বিষয়টি।

রাকিবুল আরো বলেন, আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ম অনুযায়ী দুই সপ্তাহ পরপর বৃহস্পতিবার বাড়িতে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়। সে অনুযায়ী ২৭ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সকালে বাড়িতে আসে আজিজুল । তার পোষাক খুলে গোসল করানোর সময় দেখতে পাওয়া যায় শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন। এ অবস্থা দেখে জিজ্ঞাসা  করা হলে শিক্ষক পিটিয়েছে বলে স্বীকার করে । এরপর তাকে শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরিবারের পক্ষ থেকে  এঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্ত শিক্ষকের শাস্তি চায় বলে জানান। 

শরণখোলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. মাসুম বিল্লাহর ভাষ্য, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে সে আশঙ্কামুক্ত।

অভিযোগের বিষয়ে দারুস সুন্নাহ মাদরাসার পরিচালক মাওলানা সিফাতুল্লাহ বললেন, শিশু ছাত্রকে মারধরের ঘটনাটি অনাকাঙ্খিত ও দু:খজনক। শিশুর পরিবারে সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা চলছে। এছাড়া অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধেও প্রাতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রোকেয়া খানম বললে, খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে শিশুটির খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। মামলা হলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে