ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া

সতর্ক না হলে বিপর্যয় অনিবার্য

এফএনএস | প্রকাশ: ৩১ আগস্ট, ২০২৬, ১১:১০ পিএম
সতর্ক না হলে বিপর্যয় অনিবার্য

দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু বা এএমআর এক নীরব মহামারীর রূপ নিয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর,বি)-এর সামপ্রতিক দুটি গবেষণা পরিস্থিতিকে আরও বেশি ভীতিকর করে তুলেছে। গবেষণায় স্পষ্ট হয়েছে যে, দেশের হাসপাতালগুলোর নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ও নবজাতক আইসিইউ (এনআইসিইউ) এখন ওষুধ প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণের অন্যতম প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। সাধারণত রোগমুক্তি বা জীবনরক্ষার শেষ ভরসাস্থল হিসেবে রোগীরা আইসিইউতে যান। অথচ গবেষণা বলছে, ভর্তি হওয়ার সময় সুস্থ থাকা রোগীরাও আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারাত্মক সব ওষুধ প্রতিরোধী গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। ইশেরিশিয়া কোলাই, ক্লেবসিয়েলা নিউমোনি বা অ্যাসিনেটোব্যাক্টারের মতো এই জীবাণুগুলো প্রচলিত কোনো অ্যান্টিবায়োটিকের তোয়াক্কা করছে না। ফলস্বরূপ, এসব প্রাণঘাতী সংক্রমণে আক্রান্তদের বড় একটি অংশের মৃত্যু হচ্ছে। এটি কেবল চিকিৎসাধীন রোগীদের অসহায়ত্ব নয়, বরং হাসপাতালের ভেতরের দুর্বল সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার এক নগ্ন চিত্র। তবে পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের পথও দেখিয়েছেন গবেষকরা। ঢাকার একটি এনআইসিইউতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনে হাত পরিষ্কার রাখা, পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে কঠোর প্রশিক্ষণ চালুর পর মাত্র সাত মাসে উল্লেখযোগ্য ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এটি প্রমাণ করে যে সচেতনতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখলে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব। দেশে অ্যান্টিবায়োটিকের যথেচ্ছ অপব্যবহার এই সংকটকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। চিকিৎসকের সঠিক পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক সেবন যেমন বন্ধ করতে হবে, তেমনি দেশের প্রতিটি হাসপাতালের আইসিইউ ও এনআইসিইউতে ইনফেকশন কন্ট্রোল প্রোটোকল কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। রোগী বাঁচাতে গিয়ে সংক্রমণের শিকার হয়ে জীবনহানির এই ট্র্যাজেডি কোনোভাবেই কাম্য নয়। স্বাস্থ্য খাতের নীতিনির্ধারক ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে কঠোর নজরদারি এবং দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নিতে হবে, যাতে চিকিৎসালয়গুলো রোগমুক্তির প্রকৃত কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। আমরা আশা করি, বিষয়টিকে অতি-গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে