বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনা ও ট্রাফিক বিশৃঙ্খলা বহুদিনের পুরোনো সমস্যা। প্রতিদিন হাজারো মানুষ মহাসড়কে যাতায়াত করেন, কিন্তু আইন অমান্য, অতিরিক্ত গতি, উল্টো পথে চলাচল কিংবা অবৈধ পার্কিংয়ের কারণে দুর্ঘটনা ও যানজট বেড়ে যায়। এ বাস্তবতায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিনির্ভর অটো ফাইন সিস্টেম চালু হওয়া নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। প্রায় ২৫০ কিলোমিটার মহাসড়কে ১ হাজার ৪২৭টি এআই ও সিসিটিভি ক্যামেরা উদ্বোধন করা হয়েছে গত মঙ্গলবার। এগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে যানবাহনের নম্বর শনাক্ত করে আইন লঙ্ঘনের ঘটনা রেকর্ড করছে। অতিরিক্ত গতি, নির্ধারিত লেন না মানা, বিপজ্জনক ওভারটেকিং, উল্টো পথে চলাচল কিংবা অবৈধ পার্কিং— সবকিছুই এখন এআই ক্যামেরার চোখে ধরা পড়ছে। আইন ভঙ্গের সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গাড়ির মালিকের মোবাইলে মামলা সংক্রান্ত বার্তা পাঠানো হচ্ছে এবং জরিমানা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধের সুযোগ রাখা হয়েছে। খবরে প্রকাশ- চালু হওয়ার মাত্র তিন ঘণ্টায় ৩৭৯টি মামলা করা হয়েছে, যেটি প্রমাণ করে মহাসড়কে আইন লঙ্ঘনের মাত্রা কতটা ভয়াবহ। একই সঙ্গে এটি দেখায়, এআই প্রযুক্তি কত দ্রুত ও কার্যকরভাবে আইন প্রয়োগ করতে পারে। পুলিশের সঙ্গে জনগণের সরাসরি যোগাযোগ কমে যাওয়ায় দুর্নীতির সুযোগও কমবে। জরিমানার অর্থ দ্রুত সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা তৈরি হবে। আমরা মনে করি, এ উদ্যোগ শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারের উদাহরণ নয়, বরং সড়ক নিরাপত্তায় একটি নতুন অধ্যায়। তবে এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, ডেটা সেন্টারের দক্ষতা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপর। শুধু জরিমানা নয়, বরং চালকদের মধ্যে আইন মানার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে এআই নজরদারি শুরু হওয়া উপমহাদেশে প্রথমবারের মতো একটি সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা। এটি সফল হলে দেশের অন্যান্য মহাসড়কেও একই প্রযুক্তি চালু করা উচিত। সড়ক দুর্ঘটনা কমানো, যান চলাচলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং মানুষের জীবন রক্ষা— সবকিছুই এ উদ্যোগের মাধ্যমে সম্ভব। সড়ক নিরাপত্তা মানে শুধু আইন প্রয়োগ নয়, বরং মানুষের জীবন রক্ষা। এআই প্রযুক্তি সেই দায়িত্ব পালনে নতুন আস্থা তৈরি করেছে। এখন প্রয়োজন এর ধারাবাহিকতা ও অন্যান্য সড়কে এর বিস্তৃতি।