ফুটপাত দখলমুক্ত করতে স্থায়ী সমাধান জরুরি

এফএনএস | প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:২৯ এএম
ফুটপাত দখলমুক্ত করতে স্থায়ী সমাধান জরুরি

রাজধানী ঢাকার ফুটপাত দীর্ঘদিন ধরেই দখল ও অব্যবস্থাপনার শিকার। পথচারীদের চলাচলের জন্য নির্মিত ফুটপাতের বড় অংশে হকার, দোকানপাট, অবৈধ পার্কিং ও নানা ধরনের স্থাপনা গড়ে ওঠায় সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে সড়কে নেমে চলাচল করছেন। এতে একদিকে পথচারীদের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে, অন্যদিকে যানজটও তীব্র হচ্ছে। নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে ফুটপাত দখলের এই চিত্র নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচলের অধিকারকেই প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। সাম্প্রতিক সময়ে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে অভিযান চালানো হলেও কিছুদিন পরই আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাওয়ার ঘটনা দেখা যাচ্ছে। কোথাও উচ্ছেদের পর নতুন করে দোকান বসছে, কোথাও ফুটপাত দখল করে রাখা হচ্ছে পণ্যসামগ্রী ও যানবাহন। এটা স্পষ্ট যে বিচ্ছিন্ন উচ্ছেদ অভিযান দিয়ে সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নিয়মিত নজরদারির অভাব এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটছে। ফুটপাত দখলের সঙ্গে শুধু হকারদের বিষয়টি জড়িত নয়। অনেক স্থানে স্থায়ী ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ফুটপাতের জায়গা ব্যবহার করছে। কোথাও মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন রাখা হচ্ছে, আবার কোথাও নানা ধরনের অবৈধ স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। ফলে সমস্যাটিকে শুধু হকার উচ্ছেদের দৃষ্টিতে দেখলে এর প্রকৃত চিত্র আড়ালে থেকে যাবে। একই সঙ্গে ফুটপাতে ব্যবসা করা নিম্নআয়ের মানুষের জীবিকার বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হবে। একই সঙ্গে ফুটপাত দখলের পেছনে অবৈধ অর্থ লেনদেন ও প্রভাবশালী মহলের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। কারণ অভিযান পরিচালনার পরও যদি একই জায়গায় বারবার দখল ফিরে আসে, তাহলে শুধু দখলকারীদের দায়ী করে দায়িত্ব শেষ করার সুযোগ নেই। দখল প্রতিরোধে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর তদারকি ও জবাবদিহিও নিশ্চিত করতে হবে। আমি মনে করি, ফুটপাত রক্ষায় প্রথমে প্রতিটি এলাকার জন্য সুস্পষ্ট ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। কোথায় হকার বসতে পারবেন, কোথায় বসতে পারবেন না এবং কোন জায়গা পুরোপুরি পথচারীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে-তা নির্ধারণ করতে হবে। হকারদের জন্য নির্দিষ্ট স্থান ও সময়ভিত্তিক ব্যবসার সুযোগ তৈরি করা যেতে পারে। পাশাপাশি অবৈধ পার্কিং ও স্থায়ী স্থাপনার বিরুদ্ধেও একই কঠোরতা দেখাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, উচ্ছেদের পর নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে পুনরায় দখল ঠেকানো। ফুটপাত কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত সম্পদ নয়; এটি নগরবাসীর চলাচলের অধিকার। তাই ফুটপাত দখলমুক্ত করা শুধু নগরের সৌন্দর্য রক্ষার বিষয় নয়, বরং জননিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের প্রশ্ন। সাময়িক অভিযান নয়, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা, বিকল্প ব্যবস্থা ও কঠোর নজরদারির মাধ্যমে ফুটপাতকে স্থায়ীভাবে পথচারীদের জন্য ফিরিয়ে দেওয়াই এখন সময়ের দাবি।