অবৈধভাবে অটোরিকশা চার্জ বন্ধ হোক

এফএনএস | প্রকাশ: ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৩:২৯ এএম
অবৈধভাবে অটোরিকশা চার্জ বন্ধ হোক

দেশে চলমান বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের মধ্যে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অবৈধভাবে বিদ্যুৎ ব্যবহার নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। গ্যাসের সংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, শিল্পকারখানায় উৎপাদন কমছে এবং কোথাও কোথাও লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ই-রিকশার বড় একটি অংশ রাতের বেলায় অবৈধ সংযোগে চার্জ হওয়ার তথ্য পরিস্থিতিকে আরও গুরুতর করে তুলেছে। সমস্যাটি যে শুধু বিদ্যুতের চাহিদা বাড়াচ্ছে তা নয়, এর সঙ্গে সরাসরি জড়িয়ে আছে বিদ্যুৎ চুরি ও অবৈধ সংযোগের বিষয়। এক প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, এসব যান চার্জ দেওয়ার সংযোগগুলোর সিংহভাগই অবৈধ বা অননুমোদিত। এসব সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বাধা ও হামলার মুখেও পড়তে হচ্ছে। রাজধানীতে গত দুই দিনেই অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে অভিযানে মিরপুরের বিভিন্ন গ্যারেজ থেকে ২৫টি অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও ৭০টি ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে। তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল ও হাতিরঝিল এলাকায় আরেক অভিযানে ছয়টি ব্যাটারিচালিত ভ্যান ও চারটি ব্যাটারি জব্দ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংকটের বর্তমান বাস্তবতায় এ ধরনের অবৈধ ব্যবহার কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। অন্য এক প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, গ্যাস সংকটের কারণে দেশের শিল্পকারখানাগুলোতে উৎপাদন ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে। অবৈধভাবে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার বিষয়টি নতুন নয়। কিন্তু সাম্প্রতিক বিদ্যুৎ সংকটের মধ্যে এর ব্যাপকতা এবং জাতীয় গ্রিডে এর প্রভাব নতুন করে সামনে এসেছে। তবে এখানে শুধু অটোরিকশা বন্ধ করার প্রশ্ন তুললে সমস্যার পূর্ণাঙ্গ সমাধান হবে না। এসব যানবাহনের সঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা জড়িত। তাই বিদ্যুৎ চুরি বন্ধ করার পাশাপাশি বৈধ ও নিয়ন্ত্রিত চার্জিং ব্যবস্থার সুযোগ তৈরি করাও জরুরি। ইতোমধ্যে সরকার ব্যাটারিচালিত ই-রিকশার জন্য পৃথক বিধিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। সৌরবিদ্যুৎ ছাড়া অন্য কোনো উৎস থেকে চার্জ দিলে নিবন্ধন ও নবায়ন না করার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। ঢাকাকে আটটি জোনে ভাগ করে ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনাও রয়েছে। বিদ্যুৎ একটি জাতীয় সম্পদ। সংকটের সময়ে এর অপচয় বা চুরি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। ব্যাটারিচালিত যানবাহনের প্রয়োজনীয়তা ও মানুষের জীবিকার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই বৈধ চার্জিং ব্যবস্থা, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার এবং নিবন্ধনভিত্তিক নিয়ন্ত্রণ চালু করতে হবে। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগের বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে।