রাজধানী ঢাকার যানজট দীর্ঘদিনের সমস্যা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে এর তীব্রতা ও বিস্তৃতি নতুন করে নগরবাসীর দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। প্রতিদিন গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যানবাহনের ধীরগতি, দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকা এবং সামান্য বৃষ্টিতেই যানজট তীব্র হওয়ার মতো সমস্যা গুলো দিনদিন বেড়েই চলছে। যানজটের পেছনে একক কোনো কারণ নেই। রাজধানীর সড়কে গণপরিবহণের বিশৃঙ্খলা, যত্রতত্র বাস কাউন্টার, অবৈধ পার্কিং, সড়কের পাশে যানবাহন দাঁড় করানো, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং ফুটপাত দখলের কারণে মূল সড়কের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি দূরপাল্লার বাসের যত্রতত্র কাউন্টার ও সড়কে বাস দাঁড় করানোর কারণে প্রগতি সরণির মতো গুরুত্বপূর্ণ সড়কেও যান চলাচলের গতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে অপরিকল্পিত সড়ক খোঁড়াখুঁড়ি ও নির্মাণকাজ। একটি সড়কে কাজ চললে বিকল্প সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়ে যায়, কিন্তু সেই বাড়তি চাপ সামাল দেওয়ার জন্য নেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনা। যানজট এখন শুধু কর্মঘণ্টা নষ্ট করছে না; মানুষের উৎপাদনশীলতা, জ্বালানি ব্যয় ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রার ওপরও বড় চাপ সৃষ্টি করছে। সমস্যা সমাধানে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক সংকেতব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে এবং আরও ৫০টি মোড়ে এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের উদ্যোগ রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি আন্তজেলা বাস টার্মিনাল শহরের বাইরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও করা হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ ইতিবাচক হলেও শুধু প্রযুক্তি বা টার্মিনাল স্থানান্তরের মাধ্যমে ঢাকার যানজট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না। যানজট নিরসনে প্রথমেই রাজধানীর গণপরিবহণব্যবস্থাকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। বাস রুট রেশনালাইজেশন কার্যকর করা, নির্দিষ্ট স্থানে বাস থামার ব্যবস্থা করা এবং সড়কে অবৈধ পার্কিং ও যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ফুটপাত দখলমুক্ত করে পথচারীদের চলাচলের ব্যবস্থা করতে হবে এবং ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার চলাচল নির্দিষ্ট এলাকা ও নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। সড়ক খোঁড়াখুঁড়ির ক্ষেত্রেও বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জরুরি, যাতে একই সড়ক বারবার খুঁড়ে জনদুর্ভোগ তৈরি না হয়। ঢাকার যানজট কোনো একক সংস্থার পক্ষে সমাধান করা সম্ভব নয়। সিটি করপোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ, সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় কাজ করতে হবে। বিচ্ছিন্ন প্রকল্প ও সাময়িক অভিযান নয়, দীর্ঘমেয়াদি ও বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থাপনাই পারে রাজধানীর যানজট কমাতে। তাই নগরবাসীর সময় ও কর্মঘণ্টার মূল্য বিবেচনায় নিয়ে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।