পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ম্যাক্স নামের একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৩ দিন বয়সী এক নবজাতকের পা ভেঙে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির কর্মরত সেবিকাদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে। মঙ্গলবার (১সেপ্টেম্বর) বেলা ২ টার দিকে পৌর শহরের ফেরিঘাট এলাকায় হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে ফটো থেরাপি কক্ষে এ ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। নবজাতকের পা ভেঙে যাওয়ার পরেও বিষয়টি গোপন রাখে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এমনকি ভাঙ্গা পায়ের এক্সরে রিপোর্টও অভিভাবকদের দেখানো হয়নি বলে শিশুর স্বজনরা দাবি করেছেন।
জানা গেছে, শনিবার সিজারিয়ান অপারেশনের জন্য ম্যাক্স হাসপাতালে প্রসূতিবধূ জান্নাতি আক্তার কনা বেগম ভর্তি হন। রাতেই অস্ত্রপাচার করা হয়। ফুটফুটে এক পুত্র সন্তানের জন্ম দেন সে। সমস্যা ঘটে হাসপাতাল থেকে ছাড় পত্র নেয়ার সময়। বাড়ি ফেরার ঠিক আগ মুহূর্তে ওই নবজাতকের বাবা কান্না ভেঁজা কন্ঠে জানান, বিয়ের ৬ বছর পরে প্রথম সন্তানের বাবা হয়েছেন। আনন্দ নিয়ে হাসপাতালে সময় পার করছিলেন। হঠাৎ নার্সদের অবহেলায় তার সবকিছু ওলট-পালট হয়ে যায়। বাবার অভিযোগ, তাদের নবজাতকের চোখে হলুদ রং থাকায় কিছুটা চিকিৎসা (ফটো থেরাপি) দেয়ার কথা জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। কিন্তু থেরাপি রুমে নেওয়ার কিছু সময় পরেই উচ্চস্বরে কান্না শুরু করে সন্তান।
হাহাকার করে কান্না করে নবজাতকের মা কনা বেগম জানান, অনেক অপেক্ষানর পরে প্রথম মা হয়েছেন। কিন্তু নার্স খাদিজা আমার বাচ্চাকে চোখের রং পরিবর্তনের জন্য তাপ দিতে নিয়ে পা ভেঙেছে। আমার সুস্থ ছেলের পা ভেঙে দুই ভাগ হয়ে গেছে। সে বলেন,এরা কতটা নিষ্ঠুর পা ভেঙে গেলেও আমাদের কিছু জানায়নি। এক্সরে রিপোর্টাও দেখায়নি। এ ঘটনায় বিচার দাবি করেছেন সে।
ম্যাক্স হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বরত ব্যক্তি মো. নাহিদ গণমাধ্যমকে জানান, নবজাতকের পা ঠিক কিভাবে ভেঙেছে তারা কেউ নিশ্চিত হতে পারেন নি। তবে আহত শিশুর জন্য উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং ব্যয়ভার তারা বহন করবেন।
তবে হাসপাতালের অভিযুক্ত নার্স খাদিজা বেগম জানান, সে যখন ফটো থেরাপি দিয়েছেন তখন পা ভাঙেনি। বিষয়টি জানতে ওই গৃহবধূর অস্ত্র পাচারকারী নারী চিকিৎসক ডা. তাসলিমা ফেরদৌসী রিমার ফোন নম্বরে কল দিলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
কলাপাড়া হাসপাতালের জুনিয়র শিশু কলসানটেন্ট জানান,২৯ আগস্ট নবজাতকটি জন্মের পর শ্বাসকষ্টজনিত কারণে আমার কাছে নিয়ে এসেছিল। পরে তাকে চিকিৎসা দেওয়ায় সুস্থ হয়ে ওঠে। এরপরেও শিশুটির অভিভাবকরা বাচ্চার জন্ডিস রয়েছে বলেও তাকে জানান।
পরে ম্যাক্স হাসপাতালেই ওই চিকিৎসা করাবে বলে সেখানেই থেরাপি দেয়। কিন্তু এর পরেই মঙ্গলবার দুপুরে ওই নবজাতকের বাবা তার বাচ্চার ছবি তুলে নিয়ে এসে জানায় নার্সরা থেরাপি দেওয়ার পরেই শিশুর এক পা ফুলে গেছে। এখন অনেক কান্না করছে। ওই চিকিৎসক আরও বলেন, এদিন দুইটার দিকে ম্যাক্স থেকে নাহিদ নামের একজন ফোন দিয়ে বলেন যে শিশুটির একটু সমস্যা হয়েছে। কিন্তু এক্সরে রিপোর্ট দেখাতে বললেও তারা দেখায়নি। পরে শুনেছি নবজাতকটির পা ভেঙেছে। এবিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ তেনমং গণমাধ্যমে জানান, তিনি বর্তমানে অসুস্থ। চিকিৎসাধীন রয়েছেন। কর্মস্থলে ফিরে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। তবে বিষয়টি নিয়ে অসহায় ওই পরিবারকে নানাভাবে ম্যানেজ করতে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।