জাতীয় দলের খেলা নেই, ঘরোয়া ক্রিকেটেও আপাতত ব্যস্ততা নেই। এই বিরতিতেই নতুন চ্যালেঞ্জ নিতে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) পাড়ি জমালেন মেহেদী হাসান মিরাজ। গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে খেলতে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দেশ ছেড়েছেন বাংলাদেশের এই অলরাউন্ডার।
বিমানে বসে নিজের একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করে মিরাজ লিখেছেন, “নতুন এক চ্যালেঞ্জের জন্য সিপিএলের পথে। গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের সঙ্গে ক্যারিবিয়ান যাত্রা আলিঙ্গন করতে প্রস্তুত।”
সিপিএলে এবারই প্রথম মাঠে নামার সুযোগ পাচ্ছেন ২৮ বছর বয়সী মিরাজ। অবশ্য এই টুর্নামেন্টে তাঁর যাত্রা শুরু হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে। ২০১৭ সালে ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্স তাঁকে দলে নিয়েছিল। তবে সেবার একটি ম্যাচেও খেলার সুযোগ পাননি তিনি।
এরপর গত বছর পাকিস্তান সুপার লিগে লাহোর কালান্দার্সও মিরাজকে দলে নেয়। সেখানেও একাদশে জায়গা হয়নি তাঁর। বিদেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে শেষ পর্যন্ত মাঠে নামার অপেক্ষা ফুরায় চলতি বছর লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে। গল গ্যালান্টসের হয়ে চার ম্যাচ খেলে ৪৪ রান করলেও বল হাতে কোনো উইকেট পাননি তিনি।
সিপিএলে মিরাজকে মূলত আফগানিস্তানের অলরাউন্ডার মোহাম্মদ নবীর বদলি হিসেবে দলে নিয়েছে গায়ানা। ভারতের বিপক্ষে সিরিজ খেলতে নবী জাতীয় দলের সঙ্গে যোগ দেওয়ায় তাঁর জায়গায় মিরাজের সুযোগ তৈরি হয়েছে। ফলে এবার শুধু স্কোয়াডে থাকা নয়, মাঠে নেমে নিজেকে প্রমাণ করারও সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর।
গায়ানায় যোগ দেওয়ার সময়টা অবশ্য মিরাজের জন্য বেশ ভালো। তিনি দেশ ছাড়ার আগেই তাঁর নতুন দল জ্যামাইকা কিংসমেনকে আট উইকেটে হারিয়ে টানা পঞ্চম জয় তুলে নিয়েছে। ২০ ওভারে জ্যামাইকার ১৫৯ রান তাড়া করে ১৭.২ ওভারেই ১৬০ রান করে ম্যাচ জিতে নেয় গায়ানা। রাহমানউল্লাহ গুরবাজ ৫৪ রান করেন, শাই হোপ অপরাজিত ৩৯ এবং শিমরন হেটমায়ার অপরাজিত ৩০ রান করেন।
গতবারের রানার্সআপ গায়ানা এবারও দারুণ ছন্দে আছে। পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয়ে তারা আসরের শুরুটা করেছে শতভাগ সাফল্যে। মিরাজ যোগ দিচ্ছেন এমন একটি দলে, যারা ইতোমধ্যে টুর্নামেন্টের অন্যতম শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করে ফেলেছে।
মিরাজের জন্য তাই সিপিএল শুধু আরেকটি ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট নয়, নিজেকে নতুন করে প্রমাণের সুযোগও। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অলরাউন্ডার হলেও দেশের বাইরে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে তাঁর অভিজ্ঞতা এখনো সীমিত। এর আগে সুযোগ এলেও খেলার একাদশে জায়গা হয়নি। লঙ্কা প্রিমিয়ার লিগে সুযোগ পেলেও পারফরম্যান্স ছিল প্রত্যাশার নিচে।
এবার সেই অপেক্ষা পেছনে ফেলে ক্যারিবীয় মঞ্চে ব্যাট ও বল হাতে নামার সুযোগ মিরাজের সামনে। গায়ানার হয়ে তাঁর অভিষেক কবে হবে, সেটিই এখন অপেক্ষার বিষয়।
মজার ব্যাপার হলো, বিদেশি ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে মিরাজ যে তিনটি দলে সুযোগ পেয়েছেন, সেগুলোই সংশ্লিষ্ট মৌসুমে শিরোপা জিতেছে। ত্রিনবাগো নাইট রাইডার্সের হয়ে অবশ্য মাঠে নামা হয়নি, লাহোর কালান্দার্সের হয়েও খেলতে পারেননি। গল গ্যালান্টসের হয়ে মাঠে নামলেও ব্যক্তিগতভাবে খুব বেশি সাফল্য পাননি। এবার গায়ানার হয়ে সেই ধারায় নিজের অবদান রাখার সুযোগ তাঁর সামনে।
সিপিএলের চলতি আসর ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। ফলে গায়ানার বাকি ম্যাচগুলোতে মিরাজ নিয়মিত একাদশে সুযোগ পেলে ক্যারিবীয় ক্রিকেটের পরিবেশে নিজের সামর্থ্য দেখানোর যথেষ্ট সময় পাবেন।