বরিশালের মুলাদীতে লক্ষ্মীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তর্বর্তীকালীন পর্ষদ (অ্যাডহক কমিটি) গঠনকে কেন্দ্র করে শিক্ষক ও কর্মচারীদের গালাগাল, হুমকি ও লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিরাপত্তার দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন শিক্ষক-কর্মচারীরা। গতকাল বুধবার ও আজ বৃহস্পতিবার কর্মবিরতি পালন করায় বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শ্রেণি পাঠদান কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা দ্রুত সমাধানের দাবি জানিয়েছেন।
এর আগে গতকাল বুধবার নিরাপত্তা ও প্রতিকার চেয়ে ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ারের কাছে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের অ্যাডহক কমিটি গঠনের সময় চরকালেখান ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মরহুম আব্দুস ছালাম খানের ছেলে সাইফুল ইসলাম খান তার পছন্দের ব্যক্তি স্থানীয় সাইফুল ইসলাম লাবুকে সভাপতি করার প্রস্তাব করেন। কিন্তু গত ৬ সেপ্টেম্বর বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড উপজেলা বিএনপির সদস্য মোস্তফা কামাল লিটু চৌকিদারকে অ্যাডহক কমিটির সভাপতি পদে মনোনয়ন দেয়।
এতে সাইফুল ইসলাম খান ক্ষিপ্ত হন এবং গত মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী মো. সফিকুল ইসলাম বিদ্যালয় সংলগ্ন দোকানের সামনে পেয়ে কোনো কারণ ছাড়াই তার ওপর চড়াও হন। একপর্যায়ে তাকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে মারধরের উদ্যোগ নেন সাইফুল ইসলাম খান। পরে সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল খান বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও সাইফুল ইসলাম খান বিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক-কর্মচারীদের দেখে নেওয়ার এবং মারধরের হুমকি দেন।
অভিযোগে বলা হয়, সাইফুল ইসলাম খান কয়েকদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের দেখে নেওয়ার ও মারধরের ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছেন। এর আগে গত ১৭ আগস্ট তার বিরুদ্ধে হুমকির অভিযোগ এনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছিল। বারবার এ ধরনের হুমকিতে শিক্ষক ও কর্মচারীরা আত্মসম্মান ও নিরাপত্তা নিয়ে চরম শঙ্কায় রয়েছেন। তাই তারা বিচার চেয়ে কর্মবিরতি পালন করছেন এবং নিরাপত্তার আবেদন করেছেন।
এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম খান তার বিরুদ্ধে আনা হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, কাউকে গালাগাল কিংবা হুুমকি দেওয়া হয়নি। শিক্ষক-কর্মচারীরা মিথ্যা অভিযোগ করেছেন।
মুলাদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. গোলাম সরওয়ার জানান, শিক্ষক-কর্মচারীরা নিরাপত্তা ও বিচার চেয়ে একটি লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনটি থানায় পাঠিয়ে প্রয়োজনী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
মুলাদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার মো. সোহেল রানা বলেন, লক্ষ্মীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পেলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।