রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খেলাপি ঋণ

অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত

এফএনএস
| আপডেট: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:১৭ এএম | প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:১৭ এএম
অর্থনীতির জন্য অশনি সংকেত

বাংলাদেশের আর্থিক খাত দীর্ঘদিন ধরেই নানা সংকটে জর্জরিত। সর্বশেষ সংসদে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ছয়টি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকেই খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে জনগণের মাথাপিছু ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৯ হাজার ২৩৯ টাকা। এই পরিসংখ্যান শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, বরং অর্থনীতির নাজুক অবস্থার প্রতিফলন। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বিপুল খেলাপি ঋণ দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংকগুলো জনগণের আমানত দিয়ে ঋণ বিতরণ করে থাকে। কিন্তু যখন সেই ঋণ ফেরত আসে না, তখন ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতা দুর্বল হয়, নতুন ঋণ দেওয়ার ক্ষমতা কমে যায় এবং সাধারণ আমানতকারীর সঞ্চয় ঝুঁকির মুখে পড়ে। এর ফলে বিনিয়োগ কমে যায়, কর্মসংস্থান সংকুচিত হয় এবং অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়ে। অর্থমন্ত্রী সংসদে করপোরেট সত্তা ও ব্যক্তিসত্তার পৃথকীকরণের যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তা তাত্ত্বিকভাবে যৌক্তিক মনে হতে পারে। একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বহু মানুষের কর্মসংস্থান ও উৎপাদনশীলতা যুক্ত থাকে। প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কর্মীরা চাকরি হারান। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, নির্দিষ্ট কিছু প্রভাবশালী গোষ্ঠী বছরের পর বছর আইনের ফাঁকফোকর ও রাজনৈতিক আশ্রয় ব্যবহার করে ব্যাংক থেকে শত শত কোটি টাকা লোপাট করছে। পরবর্তী সময়ে তারা পুনঃতফসিল বা বিশেষ সুবিধা পাচ্ছে। এতে সৎ ব্যবসায়ী ও সাধারণ ঋণগ্রহীতাদের কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে-ঋণ না শোধ করলেও সুবিধা পাওয়া যায়। খেলাপি ঋণের ব্যাধি নিরাময়ে সুনির্দিষ্টভাবে ঋণ পরিশোধের কঠোর বাধ্যবাধকতা তৈরি করতে হবে। বারবার পুনঃতফসিলের সুবিধা দেওয়া হলে তা অপরাধীদের উৎসাহিত করবে এবং খেলাপি ঋণ কমার কোনো বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হবে না। বর্তমানে সরকার একদিকে কৃষিঋণ মওকুফ কিংবা সামাজিক সুরক্ষায় অর্থ ব্যয় করছে, অন্যদিকে বড় খেলাপিদের পেছনে বিশাল আর্থিক তহবিল আটকে থাকছে। এতে আর্থিক খাতের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। আমরা মনে করি, খেলাপি ঋণ নিয়ন্ত্রণে এখনই প্রয়োজন ব্যাংক খাতে সুশাসন এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীন নজরদারি। কোম্পানি আইনি সত্তা হলেও তা যদি ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের ঢাল হিসাবে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেই আইনের সংস্কার ও কঠোর প্রয়োগ অপরিহার্য। একই সঙ্গে ঋণ আদায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। খেলাপি ঋণ শুধু ব্যাংক খাতকে দুর্বল করছে না, বরং দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরাও সতর্ক হয়ে পড়ছেন। সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে সাধারণ আমানতকারীর। তাদের সঞ্চয় ঝুঁকির মুখে পড়ছে, অথচ দায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে