মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে সড়ক পার হওয়ার সময় গাড়ির ধাক্কায় বিপন্ন প্রজাতির একটি মুখপোড়া হনুমানের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের মৌলভীবাজার রোডের ৬ নম্বর পুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সড়কের পাশে আহত অবস্থায় হনুমানটিকে পড়ে থাকতে দেখেন সিএনজি চালক অখিল মালাকার। তিনি দ্রুত কাছে গিয়ে হনুমানটির মুখে পানি দেন এবং প্রাণীটিকে বাঁচানোর চেষ্টা করেন। পরে তিনি বিষয়টি বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী সেবা ফাউন্ডেশনকে জানান। খবর পেয়ে ফাউন্ডেশনের পরিচালক স্বপন দেব সজল ও পরিবেশকর্মী রাজদীপ দেব দীপ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত হনুমানটিকে উদ্ধার করেন। পরে তাকে শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে হনুমানটিকে মৃত ঘোষণা করেন।
পরে মৃত হনুমানটি বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের শ্রীমঙ্গল রেঞ্জ কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। রেঞ্জ কার্যালয়ের জুনিয়র ওয়াইল্ডলাইফ স্কাউট তাজুল ইসলাম বলেন, হনুমানটির ময়নাতদন্ত করা হবে। এরপর বন বিভাগের বিধি অনুযায়ী মৃতদেহটি মাটিচাপা দেওয়া হবে।
মুখপোড়া হনুমানের ইংরেজি নাম ঈধঢ়ঢ়বফ খধহমঁৎ এবং বৈজ্ঞানিক নাম ঞৎধপযুঢ়রঃযবপঁং ঢ়রষবধঃঁং। বাংলাদেশে প্রজাতিটি বিপন্ন (ঊহফধহমবৎবফ) হিসেবে বিবেচিত। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘের (ওটঈঘ) বৈশ্বিক লাল তালিকায় এটি ঝুঁকিপূর্ণ (ঠঁষহবৎধনষব-ঠট) শ্রেণিতে রয়েছে।
আবাসস্থল ধ্বংস ও খণ্ডিত হওয়া, বনভূমিতে মানুষের ক্রমবর্ধমান হস্তক্ষেপসহ নানা কারণে মুখপোড়া হনুমান হুমকির মুখে রয়েছে। এর সঙ্গে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনাও প্রজাতিটির সংরক্ষণ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে। শ্রীমঙ্গলের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসহ আশপাশের বনাঞ্চল মুখপোড়া হনুমানের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। বনাঞ্চলের ভেতর দিয়ে যাওয়া সড়কগুলোতে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং বন্যপ্রাণী চলাচলের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন পরিবেশকর্মীরা।