আশাশুনির নাকতাড়া ক্লিনিক ভবনের নাজুক অবস্থায় জীবন শংসয়

এফএনএস (জি.এম. মুজিবুর রহমান; আশাশুনি, সাতক্ষীরা) : | প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:১২ পিএম
আশাশুনির নাকতাড়া ক্লিনিক ভবনের নাজুক অবস্থায় জীবন শংসয়

আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নে নাকতাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ভবনের চরম নাজুক অবস্থায় সেবা দাতা ও সেবা গ্রহিতাতের জীবন সংশয় হয়ে পড়েছে। উপায় না থাকায় বাধ্য হয়েই ভংগুর ভবনের ছাদের নিচে বসে সেবাদানকারীরা সেবা দিয়ে আসছেন। সেবা গ্রহিতারাও প্রাণ সংশয়ের মধ্যে সেবা নিতে বাধ্য হচ্ছে।

শ্রীউলা ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ বাজার নাকতাড়া কালিবাড়ী বাজার সংলগ্ন স্থানে নাকতাড়া কমিউনিটি ক্লিনিক ভবন নির্মান ও উদ্বোধন করা হয় ১৯৯৮ সালে। সেই থেকে প্রতাদিন গড়ে --- জন রোগি ক্লিনিকে সেবা নিয়ে থাকে। দীর্ঘ ২৭-২৮ বছর ভবনের বয়স হওয়ায় ভবনটি খুবই নাজুক হয়ে পড়েছে। ১০/১২ বছর আগে রূপান্তরসহ দুটি এনজিও ভবনের রঙ করা, কিছু টাইলস বসানো ও অন্যান্য কাজ করেছিল। বিধায় বেশ ঝকঝকে হয়ে উঠেছিল। বর্তমানে ভবনের ছাদের ঢালাইয়ের বড় বড় অংশ ভেঙ্গে খসে পড়ছে। ছাদের ঢালাইয়ের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে খসে পড়ায় ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। ঢালাইয়ের অংশ ভেঙ্গে পড়ায় ইতিমধ্যে সেবা গ্রহিতা এক মহিলা ও সেবাদানকারী গৌরাঙ্গ সরকার আহত হয়েছে। কয়েকবার কয়েকজন অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। ভবনের দুটি কক্ষ ব্যবহার অনুপযোগিতার কারনে বাধ্য হয়ে ব্যবহার বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। বর্তমানে ভবনের বারান্দায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। বারান্দার ছাদের অবস্থাও একই রকম হওয়া স্বত্তেও উপায়ন্তর না থাকায় মরণ ঝুঁকি মাথায় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। ভবনের ছাদের অবস্থা এতটাই নাজুক যে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এছাড়া দেওয়াল ও পিলারের পলেস্তারা খসে পড়ে নাজুক হয়ে পড়েছে। দরজা ও জানালার গ্রীল, রড মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে গেছে। টিকাদান কার্যক্রমের সময় শিশুদের মায়েরা ক্লিনিকে ঢ়ুকতে রাজী না হওয়ায় ও সকলের জীবনের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ক্লিনিক ছেড়ে পাশে ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে সাময়িক ভাবে টিকাদানের কাজ পরিচালনা করা হয়ে আসছে। জরাজীর্ণ ক্লিনিকের দুরাবস্থা দেখতে মাননীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী অফিসার পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ কয়েক বছর আগে থেকে ক্লিনিক পরিদর্শন করেছেন। অনেক প্রত্যাশার কথা শুনিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে এখনো কোন কাজ এলাকার মানুষ দেখতে পায়নি। 

দায়িত্বরত স্বাস্থ্য সহকারী সঞ্জয় কুমার মন্ডল জানান, আমরা বিপদের মধ্যে আছি। সেবা গ্রহিতা ও আমরা সব সময় প্রাণের ভয় বুকে নিয়ে কাজ করে আসছি। বিষয়টি উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে বারবার অবহিত করা হয়েছে। কবে নতুন ভবন আসবে বুঝতে পারছিনা। শ্রীউলা ইউপি চেয়ারম্যান অধ্যাপক দীপংকর বাছাড় দীপু জানান, ক্লিনিক ভবনের অবস্থা খুবই খারাপ। বিভিন্ন জায়গায় ধসে ধসে পড়ছে। আজ সকালেও পড়েছে। ক্লিনিকে রোগির চাপ বেশী। তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া দরকার। আমরা ইউএনও মহোদয়ের কাছে আবেদন করেছি, এমপি মহোদয়ও দেখে গেছেন। আশা করছি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে