তিন বন্ধু মিলে মোটরসাইকেলে গন্তব্যের পথে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই সড়ক দুর্ঘটনায় থেমে গেল হাফেজ আব্দুল্লাহ্ আল মামুনের (২০) প্রাণ। বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন তার দুই বন্ধু। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নাটোরের লালপুর উপজেলার শিমুলতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত হাফেজ আব্দুল্লাহ্ আল মামুন উপজেলার উত্তর লালপুর গ্রামের মো. শহীদুল ইসলাম লাকীর ছেলে। তিনি রওজাতুস সুন্নাহ কওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন। পরে খায়রুল উম্মা হাফেজিয়া মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে গত বছর হাফেজিয়া সম্পন্ন করেন।
খায়রুল উম্মা হাফেজিয়া হিবস মাদ্রাসার মুহতামিম হাফেজ মো. মাসুদুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আহতরা হলেন- একই গ্রামের বজলুর রহমানের ছেলে ইমরান (২০) এবং বালিতিতা গ্রামের নাজির হোসেনের ছেলে মনি (২০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার বেলা ১১ টার দিকে আব্দুল্লাহ্, ইমরান ও মনি একই মোটরসাইকেলে করে তিন বন্ধু গোপালপুরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। তারা শিমুলতলা এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ইজিবাইকের সঙ্গে মোটরসাইকেলটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান আব্দুল্লাহ্। গুরুতর আহত হন ইমরান ও মনি। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধারে সহযোগিতা করেন। পরে লালপুর ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
লালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রুমাইয়া হক রাকা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই আব্দুল্লাহর মৃত্যু হয়েছে। আহত ইমরান ও মনির অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। লালপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শফিকুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় লালপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা দায়ের করা হয়েছে।