এশিয়া কাপের পুরুষ ও নারী বিভাগের দুই ট্রফিই শেষ পর্যন্ত ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিসিআই) মুম্বাইয়ের দপ্তরে পৌঁছাবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন বোর্ডের সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া। তবে ট্রফি দুটি কবে ফিরবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা দিতে রাজি হননি তিনি।
মুম্বাইয়ে শুক্রবার বিসিসিআইয়ের ৯৫তম বার্ষিক সাধারণ সভার পর সাইকিয়া বলেন, "আমি কোনো সময়সীমা দেব না। তবে আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি, দুই ট্রফিই একদিন বিসিসিআইয়ের মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামের দপ্তরে এসে পৌঁছাবে।"
সম্প্রতি নারী এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানে হারিয়ে শিরোপা জেতে ভারত। কিন্তু পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের (এসিসি) সভাপতি মোহসিন নাকভির কাছ থেকে ট্রফি ও বিজয়ী পদক গ্রহণ করেনি ভারতীয় দল। নাকভি একই সঙ্গে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
পুরুষ এশিয়া কাপের ফাইনালের পরও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। গত সেপ্টেম্বরে দুবাইয়ে পাকিস্তানকে হারিয়ে শিরোপা জেতার পর ভারতীয় পুরুষ দলও নাকভির কাছ থেকে ট্রফি গ্রহণ করেনি। দুই ঘটনার পরই এশিয়া কাপের ট্রফি দুটি বিসিসিআইয়ের কাছে না থাকার বিষয়টি আলোচনায় আসে।
নারী এশিয়া কাপের ফাইনালের পর ভারতীয় দল নিজেদের উদ্যোগে সেরা ফিল্ডারের জন্য একটি পদক প্রদান অনুষ্ঠান করে। ফিল্ডিং কোচ মুনিশ বালি সেই পদক দেন। বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া এবং সহসভাপতি রাজীব শুক্লা মিলে ফাইনালে দুটি দুর্দান্ত ক্যাচ নেওয়া নন্দনী শর্মার হাতে ফিল্ডিং পদক তুলে দেন।
এর এক দিন পর সাইকিয়া জানিয়েছিলেন, নাকভির কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ না করার সিদ্ধান্তটি ছিল বিসিসিআইয়ের "দৃঢ় প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত"। তিনি বলেছিলেন, এ বিষয়ে আগেই এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলকে জানানো হয়েছিল যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ভারতীয় দল ট্রফি বিতরণী অনুষ্ঠানে অংশ নেবে না।
সাইকিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান পরিস্থিতি এবং দেশের মানুষের অনুভূতির কথা বিবেচনা করেই বিসিসিআই মনে করেছিল প্রস্তাবিত পদ্ধতিতে দলের ট্রফি গ্রহণ করা উপযুক্ত হবে না। একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন, সিদ্ধান্তটি কোনো খেলোয়াড়, টুর্নামেন্ট বা ক্রিকেটের বিরুদ্ধে ছিল না।
২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সীমান্ত উত্তেজনার পর থেকেই দুই দেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কেও এর প্রভাব দেখা যাচ্ছে। ভারতীয় খেলোয়াড়রা পাকিস্তানি খেলোয়াড় ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে করমর্দন থেকেও বিরত থেকেছেন।
এর ধারাবাহিকতায় প্রায় এক বছর আগে সূর্যকুমার যাদবের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় পুরুষ দল পাকিস্তানের বিপক্ষে এশিয়া কাপের ফাইনাল জয়ের পরও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দেখা যায়নি। সেই অনুষ্ঠান বিলম্বিত হয়েছিল এবং সেখানে শুধু রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের পদক দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে এশিয়া কাপের ট্রফি নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যেই ভারতীয় নারী দল এশিয়ান গেমসে নতুন অভিযানে নেমেছে। ১৮ সেপ্টেম্বর জাপানকে আট উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে তারা।
জাপানের দেওয়া ৫৮ রানের লক্ষ্য ভারত মাত্র পাঁচ ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে পেরিয়ে যায়। শেফালি ভার্মা ১৫ বলে অপরাজিত ৪০ রান করেন। এই জয়ের ফলে ২০ সেপ্টেম্বর সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে ভারত।
বাংলাদেশও সেমিফাইনালে উঠেছে। চীনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হওয়ার পর র্যাঙ্কিংয়ের সুবিধায় শেষ চারে জায়গা করে নেয় বাংলাদেশ। ফলে এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে ২০ সেপ্টেম্বর ভারত ও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ সেমিফাইনাল ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে।
এশিয়া কাপের দুই ট্রফি নিয়ে বিসিসিআইয়ের অবস্থান অবশ্য এখনো স্পষ্ট। ট্রফি দুটি মুম্বাইয়ের দপ্তরে ফিরবে বলে নিশ্চয়তা দিয়েছেন সাইকিয়া, কিন্তু ঠিক কবে সেগুলো ফিরবে, সে বিষয়ে কোনো সময়সীমা দেননি তিনি।