সিলেট নগরীর রায়নগর রাজবাড়ি এলাকায় একই পরিবারের তিনজনকে হত্যার মামলায় গ্রেপ্তার রংমিস্ত্রি বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
মঙ্গলবার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফারহানা সুলতানার আদালত পিবিআইয়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। এর আগে পিবিআই পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও শুনানি শেষে আদালত দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
পিবিআই সিলেটের পুলিশ সুপার মো. শাহাদাত হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, আসামির দেওয়া আগের বক্তব্যের সত্যতা এবং ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না-এসব বিষয় যাচাই করতে বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
গত ১২ আগস্ট সিলেট নগরের রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ‘নিকুঞ্জ ভিলা’ নামের একটি বাসা থেকে ব্যবসায়ী এম আবদুস সাত্তার, তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম ও গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা কোতোয়ালি মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। প্রথমে পুলিশ মামলাটির তদন্ত শুরু করলেও পরে তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার প্রায় পাঁচ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
রিমান্ডে বাবুল পুলিশকে জানায়, বাসাভাড়া পরিশোধের টাকা জোগাড় করতে চুরির উদ্দেশ্যে সে ওই বাসায় প্রবেশ করে। সেখানে গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের কাছে ধরা পড়ে গেলে নিজের অপরাধ আড়াল করতে একে একে তিনজনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে। পরে বাসা থেকে প্রায় ১৫ হাজার টাকা নিয়ে পালিয়ে যায় বলে তার দাবি।
তবে গ্রেপ্তারের পর শুরুতে পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে বাবুল ভিন্ন তথ্য দিয়েছিল বলেও তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। একপর্যায়ে সে গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথাও বলেছিল। পরে তদন্তে ওই বক্তব্যের সত্যতা পাওয়া যায়নি বলে পুলিশ জানায়। এরপর চুরির উদ্দেশ্যকেই হত্যাকাণ্ডের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
১৬৪ ধারায় জবানবন্দি
চার দিনের রিমান্ড শেষে গত ২০ আগস্ট বাবুল মিয়াকে আদালতে হাজির করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে সাড়ে ৮টা পর্যন্ত সে বিচারকের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেয়।
কোর্ট ইন্সপেক্টর মাহবুবুর রহমানের ভাষ্য অনুযায়ী, বাবুল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছে। তবে ওই জবানবন্দির বিস্তারিত প্রকাশ করা হয়নি।
সম্পত্তি বিরোধের অভিযোগ
মামলার বাদী ও নিহত দম্পতির মেয়ে সেলিনা সুলতানা এজাহারে সম্পত্তি-সংক্রান্ত বিরোধের কথাও উল্লেখ করেছেন। হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে বলেও তিনি সন্দেহ প্রকাশ করেন।
এ কারণে মামলার শুরু থেকেই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত মোটিভ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। বর্তমানে বাবুল মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে হত্যার কারণ, তার আগের বক্তব্যের সত্যতা এবং ঘটনায় অন্য কারও সম্পৃক্ততা ছিল কি না-এসব বিষয় খতিয়ে দেখছে পিবিআই