ডিবি পরিচয়ে ছাত্রদল নেতাকে রাতভর মারধর-নির্যাতনের অভিযোগ

এফএনএস (কুয়াকাটা, পটুয়াখালী) :
| আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম | প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম
ডিবি পরিচয়ে ছাত্রদল নেতাকে রাতভর মারধর-নির্যাতনের অভিযোগ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মহিপুর মৎস্য বন্দরে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে মেহেদী হাসান ফারুক নামের এক ছাত্রদল নেতাকে তুলে নিয়ে রাতভর মারধর ও নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানা, সদস্য সচিব ফাহিম, রাশেদসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীর সহযোগিরা। গুরুতর আহত ফারুক বর্তমানে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জানা গেছে, গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে মহিপুর বাজার থেকে সাদা পোশাকে কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয় দিয়ে ফারুককে মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, ওই ব্যক্তিদের হাতে ওয়াকিটকিও ছিল। পরে তাকে কলাপাড়া পৌরশহরের একটি হোটেলের পূর্ব পাশে নির্জন এলাকায় নিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয় মহলের দাবি, একটি বিয়েতে সাক্ষী হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ফারুককে তুলে নিয়ে মারধর করা হতে পারে। তবে এ ঘটনার পেছনের কারণ কী তা পুলিশের পক্ষ থেকে কোন তথ্য মেলেনি।

মহিপুর মুক্তিযোদ্ধা মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি রবিউলের দাবি, ১৭ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি জানতে পারেন, ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ফারুককে তুলে নিয়ে গেছে। এরপর তারা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এক পর্যায়ে রাত ১টার দিকে কলাপাড়া শহরের রুবান হোটেলের পাশ থেকে ফারুককে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে কলাপাড়া ৫০ শয্যা হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কলাপাড়া উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব ফাহিম গণমাধ্যমকে বলেন, এর সঙ্গে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই। তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেন। উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ রানাও তার সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন।  তবে অভিযোগকারীদের দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ওয়াকিটকি হাতে এক ব্যক্তির সঙ্গে মাসুদ রানাকে দেখা গেছে। ভিডিওটির সত্যতা ও এর ধারণের সময় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, ‘এ ঘটনায় আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার সত্যতা অনুসন্ধানে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’

পুলিশ আরও জানায়, ফারুককে কারা তুলে নিয়ে গিয়েছিল, তাদের পরিচয় কী ছিল এবং ডিবি পুলিশের পরিচয় ব্যবহারের বিষয়টি সত্য কি না এসব খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এদিকে ঘটনার অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা তৈরি হয়েছে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে