হুমকিতে পরিবার

তানোরে শিশুকন্যাকে ধর্ষণচেষ্টা, ৫ দিনেও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ

মো: ইমরান হোসাইন; তানোর, রাজশাহী
| আপডেট: ২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম | প্রকাশ: ২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৩:৫৭ পিএম
তানোরে শিশুকন্যাকে ধর্ষণচেষ্টা, ৫ দিনেও ব্যবস্থা নেয়নি পুলিশ
রাজশাহীর তানোরে প্রায় চার বছর বয়সের এক শিশুকন্যাকে ধর্ষণচেষ্টা ও যৌন নির্যাতনের গুরুতর ঘটনা ঘটেছে। এঘটনায় ওই শিশুকন্যাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসা শেষে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বাড়িতে নেয়া হয়েছে। মেডিকেল পরিক্ষায় সেক্সুয়াল অ্যাসাল্ট বা যৌন নির্যাতনের ইতিহাস আছে বলে ছাড়পত্রে উল্লেখ করেছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। এঘটনার পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও থানা পুলিশ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে, শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে ভিকটিম ও তার মাকে পুলিশ ডেকে নিয়ে থানায় বসে রেখেছেন। কিন্ত দুপুর আড়াইটার দিকে এরির্পোট লেখা পর্যন্ত তাদের থানায় কোন মামলা রুজু করা হয়নি। এলাকাবাসী ও লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তানোর উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের এক বাসিন্দা তার দুই শিশুকন্যাকে নিয়ে বাইরে ঘুরতে বের হন। তার বড় মেয়ের বয়স ৩ বছর আট মাস। আর ছোট মেয়ের বয়স ৭ মাস। এঅবস্থায় উপজেলার বাধাইড় ইউনিয়নের রামদেবপুর গুচ্ছগ্রামের বাসিন্দা সেলিম রেজার ছেলে সবুজ আলী (১২) তাদের দেখতে পায়। একপর্যায়ে সবুজ আলী কৌশলে বড় কন্যাসন্তানকে তার বাড়ির ভেতরে ডেকে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেয়। বেশ কিছু সময় পর শিশুটির মা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন এবং নাম ধরে ডাকতে থাকেন। এ সময় সবুজের ঘর থেকে শিশুটির চিৎকার ও কান্নার আওয়াজ শুনতে পেয়ে মা দ্রুত ওই বাড়ির দরজার সামনে যান। দরজা ভেতর থেকে বন্ধ থাকায় তিনি জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখেন, তার শিশু কন্যাকে খাটের ওপর শুইয়ে যৌন নির্যাতন করছে সবুজ আলী। মায়ের চিৎকার ও প্রতিবেশীদের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত সবুজ আলী দ্রুত দরজা খুলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, ঘটনার পর বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়ভাবে প্রভাব খাটিয়ে চিকিৎসার খরচ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য সবুজের পরিবার বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু আইনি পদক্ষেপের আশঙ্কায় অভিযুক্তের পরিবার চিকিৎসার কোনো খোঁজ না নিয়ে উল্টো সবুজকে অন্যত্র সরিয়ে ফেলে। এ ঘটনায় গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে শিশুটির মা বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামি করে তানোর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু অভিযোগের ৫ দিন অতিবাহিত হলেও পুলিশ কোনো কার্যকরি পদক্ষেপ নেয়নি বা অভিযুক্তকে আটক করতে পারেনি। উল্টো আসামিপক্ষের অব্যাহত হুমকিতে ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন। ঘটনার প্রাথমিক সত্যতা নিশ্চিত করে তানোর উপজেলার মুন্ডুমালা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার বিকেলে তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন এবং প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পেয়েছেন। বিষয়টি তানোর থানার অফিসার ইনচার্জকে (ওসি) অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে অভিযুক্ত সবুজ আলীকে পাওয়া যায়নি। পরে মোবাইলে তার বাবা সেলিম রেজা জানান, তিনি কাজের সন্ধানে ফরিদপুরে অবস্থান করছেন। ঘটনাটি তিনি শুনেছেন এবং দ্রুত বাড়ি ফেরার চেষ্টা করছেন। আইনি প্রক্রিয়ার অগ্রগতি জানতে চাইলে তানোর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহমুদুল হাসান বলেন, "অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটি তদন্ত করা হয়েছে। আমি বর্তমানে বাইরে আছি, তবে এই বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া ও আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানা ওসি। 
আপনার জেলার সংবাদ পড়তে