শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জ্ঞানের আলোর সূতিকাগার। একজন শিক্ষার্থীকে প্রকৃত মানুষের মত মানুষ করাই শিক্ষক বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বিপরীত ঘটনার অভিযোগ উঠেছে আশাশুনি উপজেলার বুধহাটা বাহাদুরপুর ভুবন মোহন কলেজিয়েট স্কুলের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
অভিযুক্ত কর্মচারী পরিচ্ছন্নতা কর্মী শুভ সাধু। এব্যাপারে অভিভাবক গৌর কর্মকার বাদী হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
লিখিত অভিযোগ ও সরেজমিন ঘুরে জানাগেছে, উপজেলার কুল্যা গ্রামের বাদী গৌর কর্মকারের ছোট ছেলে কৌশিক কর্মকার ঐ স্কুলের শিক্ষার্থী। কৌশিক গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিল। কিন্তু পরীক্ষার আগে ও পরে স্কুলের পরিচ্ছন্নতা কর্মী শুভ শিক্ষার্থী কৌশিক কর্মকারের নিকট ইয়াবা বিক্রয় ও সেবন করায়। এছাড়া ইয়াবা সেবন করিয়ে তার কাছ থেকে বিভিন্ন সময় শুভ নগদ অর্থ, স্বর্ণালংকার ও একটি আই ফোন হাতিয়ে নেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার ভিকটিম কৌশিক কর্মকার এ ঘটনার সত্যতার স্বীকার করে বলেন, শুভ সাধু আমাকে (কৌশিক) বিভিন্নভাবে ইয়াবা সেবন করাতে বাধ্য করে। মাদক সেবন করলে পরীক্ষা ভালো হবে মর্মে আমাকে ধারণা দিয়ে নিয়মিত ইয়াবা বিক্রি ও সেবন করাতেন। মাদকের অর্থ যোগান দিতে বাবার প্রতিষ্ঠান থেকে নগদ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া, মায়ের স্বর্ণ অলংকার চুরির বিষয়ে আমাকে চাপ দিতে থাকেন অভিযুক্ত শুভ সাধু। এ বিষয়ে কৌশিকের বাবা গৌর কর্মকার বলেন, শুভ সাধু আমার ছেলের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে, কাল অন্য শিক্ষার্থীর জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলবে। এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করবে মাদকাসক্ত শুভ সাধু। তিনি এ ঘটনার সঠিক তদন্ত পূর্বক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ ঘটনার সরেজমিন তথ্য সংগ্রহ কালে বুধহাটা ভুবন মোহন কলেজিয়েট স্কুলের অধ্যক্ষ মোহিত কুমার দাশ তথ্য সংগ্রহে বাধা প্রদান করেন। এমন কি প্রতিষ্ঠান প্রধান হিসেবে তিনি কোন বক্তব্য দিতে রাজি হননি এবং অভিযুক্ত শুভ সাধুর পক্ষ নিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন অধ্যক্ষ মোহিত কুমার দাশ। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মাদক ব্যবসার ঘটনা দুঃখজনক ও লজ্জা জনক বলে জানান স্থানীয় সচেতন মহল।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু বলেন, বুধহাটা ভুবন মোহন কলেজিয়েট স্কুলের পরিচ্ছন্নতা কর্মী শুভ সাধুর বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।