মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ শুরু

এফএনএস (সাবেরা ঝর্ণা; শরণখোলা, বাগেরহাট) : | প্রকাশ: ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা আজ শুরু

মা ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করতে আজ ৮ অক্টোবর থেকে  ইলিশ আহরন,  বিক্রয়, মজুত সংরক্ষণ ও পরিবহনের উপর ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়েছে। উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে আগামী ২৯  অক্টোবর পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞ  বলবদ থাকবে। নিরাপদ প্রজননের মাধ্যমে ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা সফল করতে মৎস্য  বিভাগ বিভিন্ন পদক্ষেপ  গ্রহণ করেছে। নিষেধাজ্ঞ অমান্য    করলে জেল জরিমানার পাশাপাশি  জেলে কার্ড বাতিল ও জাল বাজেয়াপ্ত করা হবে। প্রায় ৫ হাজার জেলেকে খাদ্য সহায়তা দেয়া হচ্ছে   বলে মৎস্য  বিভাগ জানিয়েছে। সাগর থেকে দু'চারটা ছাড়া সকল ফিসিং ট্রলার  আজ সকালে রায়েন্দা  মৎস্য আড়ৎদার ঘাটে এসে পৌঁছেছে।বাকিগুলো সন্ধ্যার মধ্যে পৌঁছাবে  বলে আজ দুপুরে ঘাট সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ সরোয়ার হোসেন জানান।  

মৎস্য বিভাগ জানায়, দেশে জাতীয় মাছ  ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর লক্ষ্যে ৮ অক্টোবর থেকে আগামী ২৯  অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের  ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার।  ইলিশ এ সময়ে  স্রোতের উজানে অগভীর পানিতে উঠে আসে ডিম ছাড়তে।  মুক্ত  ভাসমান ডিম থেকে বাচ্চা ফোটে। অপ্রাপ্তবয়স্ক ইলিশ  (জাটকা) নদীর ভাটিতে নেমে সমুদ্রে পৌঁছে বড় হয় । প্রাপ্ত বয়স্ক  প্রজনন ক্ষমা হয়ে জীবন চক্র পূর্ন করার জন্য আবারো নদীতে ফিরে যায় । ইলিশ উচ্চ উৎপাদনশীল সোনালী মাছ ।  বড় আকারের একটি ইলিশ ২০ লাখ পর্যন্ত ডিম ছাড়তে পারে। ইলিশ সারা বছর কম বেশি ডিম ছারলেও সবচেয়ে কম ডিম ছাড়ে ফেব্রুয়ারি মার্চে। অপরদিকে  বেশি ডিম ছাড়ে সেপ্টেম্বর অক্টোবরে। 

বিশেষজ্ঞদের মতে প্রজনন ঋতু নির্ধারণের ক্ষেত্রে স্ত্রী মাছের জিএসআই  এড়হধফড় ংড়সধঃরপ ওহপষবী পরিমান  পদ্ধতি জিএসআই হলো মাছের ডিমের ওজন ও দেহের ওজনের অনুপাতের শতকরা হার ।  সাধারণত প্রজনন ঋতুতে ডিমের আকার বড় হতে থাকে বলে এস আই বাড়তে থাকে এবং বড় প্রজনন মৌসুমে গিয়ে তা সর্বোচ্চ হয়। 

বঙ্গোপসাগর থেকে ইলিশ শিকার করে শরণখোলার রায়েন্দা মৎস্য আরতকেন্দ্রে ফিরে আসা এফবি তানজিরা ট্রলারের জেলে লোকমান খান মহিদুল ও আনোয়ার হোসেন বলেন এর আগে একাধিক বার লোকসান  হলেও এবারে আমরা লাভের মুখ দেখেছি। ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে এ নিষেধাজ্ঞার প্রতি তারা  সমর্থন জানান।  নাম প্রকাশ না করা শর্তে কয়েকজন জেলে জানায়   একশ্রেণীর অসাধু ছেলেরা সাগরে নেমে মাছ শিকার করে। এ ব্যাপারে সরকারি নজরদারি করার আহ্বান জানান। 

ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকারের এ  নিষেধাজ্ঞার প্রতি স্বাগত জানিয়ে   বাগেরহাট জেলা মৎস্যজীবী জলের সভাপতি দুলাল ফরাজী বলেন,  ইলিশ আহরণের মৌসুমে দুবারের নিষেধাজ্ঞায় প্রায় তিন মাস ইলিশ শিকার করতে পারে না জেলেরা । তার  পর বেশি দিন ইলিশ আহরণ করা যায় না। এর মধ্যে আবার ঘূর্ণিঝড় ডাকাতের উৎপাত আবার কখনো কখনো ইলিশ শিকারে যেতে যে পরিমান  টাকা খরজ হয় সেই পরিমান টাকার আহরিত ইলিশ  বিক্রি করা যায় না। যে কারণে জেলে ও মহাজনরা দেনার দায়  জর্জরিত হয়ে পড়ে। এসব কারণে জেলেরা পেশা বদলানোর চিন্তা করছে। 

নিষেধাজ্ঞার আগের দিন বুধবার ৭ অক্টোবর  সকাল সন্ধ্যা মাছ বিক্রির হিরিক পড়ে। বিশেষ করে রায়েন্দা  বাজারে সন্ধ্যার পরে ইলিশ বেচা কেনার  ধুম পড়ে।  যা ইতিপূর্বে কখনো চোখে পড়েনি। শরণখোলা  উপজেলা সিনিয়র  মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস বলেন, নিষেধাজ্ঞার সময় ৪ হাজার ৮৯৫ জন জেলেকে ২৫ কেজি করে খাদ্যসহায়তা চাল প্রদান করা হচ্ছে । সরকারের এ নিষেধাজ্ঞা কর্মসূচি বাস্তবায়নের জন্য জনবহুল স্থানে মাইকিং, ব্যানার প্রদর্শন ও সচেতনতা সভা করা হচ্ছে ।  নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যদি কেউ মা ইলিশ  শিকার করে তবে তার বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায়  জেল জরিমানা করা হবে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে