জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন চাষে স্বপ্ন দেখছেন কালীগঞ্জের স্বপন

এফএনএস (টিপু সুলতান; কালীগঞ্জ, ঝিনাইদহ) :
| আপডেট: ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম | প্রকাশ: ৮ অক্টোবর, ২০২৬, ০৪:১০ পিএম
জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন চাষে স্বপ্ন দেখছেন কালীগঞ্জের স্বপন

ঝিনাইদহ কালীগঞ্জে গাছে গাছে ঝুলছে কমলা ও হলুদাভ রঙের আকর্ষণীয় ফল। দূর থেকে দেখলে অনেকটা টমেটোর মতো মনে হলেও কাছে গেলে বোঝা যায়, এগুলো পার্সিমন। জাপানের জনপ্রিয় এ ফলের চাষ করে সাড়া ফেলেছেন কৃষি উদ্যোক্তা আশরাফ হোসেন স্বপন। তাঁর প্রায় ১ বিঘা জমির বাগানে ৬ জাতের পার্সিমন গাছের মধ্যে ৫ জাতেই এবার ফল এসেছে। ফলের আকর্ষণীয় রং, মিষ্টি স্বাদ ও কষমুক্ত বৈশিষ্ট্যে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন তিনি। তাঁর আশা, দেশে পার্সিমনের বাণিজ্যিক চাষের সম্ভাবনা তৈরি হবে।তিনি পার্সিমন ফলের আবাদ কে বানিজ্যিক চাষে নিয়ে আগ্রহী প্রকাশ করেছেন।

কালীগঞ্জ উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা গ্রামে প্রায় ১ বিঘা জমিতে এ বাগান গড়ে তুলেছেন স্বপন। দুই বছর আগে প্রথমে ৮০টি পার্সিমনের চারা রোপণ করেন তিনি। পরে আরও ১০০টি চারা রোপণ করেন। বাগানে রয়েছে ফুয়ু, সুইট তাইকাওয়াসী, জিরো, চিকেন হার্ট, বিগ মোপান ও হাচিয়া জাতের পার্সিমন। এর মধ্যে এবার ৫ টি জাতের গাছে ফল এসেছে।স্বপনের বাগানে দেখা গেছে গাছের ডালে ডালে ঝুলছে বিভিন্ন আকৃতির পার্সিমন। কোনোটি হলুদাভ, কোনোটি আবার কমলা রঙের। ফলগুলো দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি স্বাদেও মিষ্টি। উদ্যোক্তা স্বপনের দাবি, তাঁর বাগানের অধিকাংশ ফলই কষমুক্ত। ফলে স্থানীয় ভাবে যারা ফল গুলো খেয়েছেন, তাঁদের অনেকেই পার্সিমন চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। এর আগে এ জাতের ফল এলাকার কেউ কখন চাষ করেনি ফলে এলাকার মানুষ প্রতিদিন তারবাগান দেখতে আসছে ও অনেকে সেলফি ছবি তুলছেন।

আশরাফ হোসেন স্বপন বলেন,বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সুপারশপে পার্সিমন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশে শুরুতে কষযুক্ত পার্সিমনের চাষ হলে এখন কষমুক্ত জাতের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছে। আমার বাগানের ফল কষমুক্ত হওয়ায় নতুন উদ্যোক্তারা ফল খেয়ে সন্তুষ্ট হচ্ছেন। অনেকে এসব জাতের চারা সংগ্রহ করে চাষ করতে আগ্রহী।ম্বপন বলছেন এক বিঘা জমিতে প্রায় ১২০টি পার্সিমনের চারা রোপণ করা যায়। অন্যান্য ফলের বাগানের মতোই এর পরিচর্যা করতে হয়। তবে ভালো ফলনের জন্য জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে হয়। পাশাপাশি ছত্রাকের সংক্রমণ, জাবপোকাসহ বিভিন্ন পোকা মাকড়ের আক্রমণ থেকে গাছ রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী বালাইনাশক ব্যবহার করতে হয়।পার্সিমন চাষে প্রাথমিক পর্যায়ে কিছুটা অপেক্ষা করতে হলেও গাছ বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে উৎপাদন বাড়বে। দেশের বাজারে ফলটির উচ্চমূল্য থাকায় ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক ভাবে এ চাষ লাভজনক হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

ঝিনাইদহ কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামান বলেন,ঝিনাইদহ জেলার কোটচাঁদপুর, মহেশপুর ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকজন কৃষি উদ্যোক্তা পার্সিমন চাষ করছেন। তবে তাঁরা কোন কোন জাতের পার্সিমন চাষ করছেন, সে বিষয়ে তাঁর বিস্তারিত জানা নেই।কৃষি কর্মকর্তা বলছেন,সরকারি ভাবে এখনো পার্সিমনের জাত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণের বিষয়ে কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। উদ্যোক্তারা দেশ-বিদেশের বিভিন্ন উৎস থেকে চারা সংগ্রহ করে চাষ করছেন। কৃষি বিভাগ থেকে তাঁদের প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরামর্শ ও সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।এ ফলের চাষ খুবই লাভজনক বলে জানান।

কৃষি উদ্যোক্তা স্বপনের বাগানে ফল আসায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও পার্সিমন চাষ নিয়ে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, দেশের আবহাওয়া ও মাটির উপযোগিতা যাচাই করে ভালো জাত নির্বাচন এবং আধুনিক প্রযুক্তি কাজে লাগানো গেলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশেও পার্সিমনের বাণিজ্যিক ভাবে চাষের সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে