জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ফলকের পর্দা টেনে জেলা ভূমিসেবা কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু এমপি। বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় জেলা উদ্বোধন শেষে মোনাজাত করে সেবার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি। এসময় ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু তাঁর বক্তব্যে বলেন, "বর্তমান সরকার জনগণের দোরগোড়ায় দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পৌঁছে দিতে বদ্ধপরিকর। এই ভূমিসেবা কেন্দ্র চালুর ফলে সাধারণ মানুষ এখন থেকে আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে খুব সহজেই ভূমিসংক্রান্ত যাবতীয় সেবা পাবেন। এতে সময় ও অর্থের সাশ্রয় হবে এবং সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে।"
অন্যদিকে, ভূমি সেবা নিতে আসা প্রত্যাশীরা জানান, আগে ভূমিসংক্রান্ত যেকোনো কাজের জন্য দিনের পর দিন ঘুরতে হতো এবং নানা হয়রানির শিকার হতে হতো। নতুন এই আধুনিক সেবা কেন্দ্র চালুর ফলে এখন এক ছাদের নিচ থেকেই দ্রুত ও হয়রানিমুক্ত সেবা পাওয়া যাবে বলে তারা আশাবাদী। ভূমিসেবা কেন্দ্রের কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে রাজশাহী মহানগর পূজা উদযাপন কমিটির এক প্রস্তুতি সভায় যোগ দেন ভূমিমন্ত্রী।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভূমিমন্ত্রী মো. মিজানুর রহমান মিনু বলেন, "আগামী ১৬ অক্টোবর থেকে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্বিঘ্নে, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নিজেদের উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তার সব ব্যবস্থা সরকার গ্রহণ করেছে।"
মন্ত্রী আরও বলেন, "রাজশাহী আমাদের সবার প্রিয় শহর। এই শহরে আগে থেকেই সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করে আসছেন। আমি সবাইকে শারদীয় শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আপনারা যে দাবিগুলো করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা হবে। আপনারা যাতে ভালোভাবে পূজা উদযাপন করতে পারেন, সেই ব্যাপারে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। বাগমারা থেকে পূজা উদযাপন শুরু হয়েছিল, তারপর তা বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে।"
তিনি আরও বলেন, "সরকারের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত সাহায্য-সহযোগিতা করা হচ্ছে। আপনাদের বাড়ির পাশের কোনো গরিব-অসহায় ছেলে-মেয়ে যেন খাবার অথবা নতুন পোশাকের জন্য কষ্ট না পায়, সেই বিষয়গুলো অবশ্যই দেখবেন। সবাই মিলেমিশে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেবেন। সবাইকে শান্তিপূর্ণভাবে পূজা উদযাপন করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি। কেউ যেন বিশৃঙ্খলা করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখবেন। কাউকেই কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে দেওয়া হবে না। পুলিশ প্রশাসনসহ সবাই আপনাদের পাশে রয়েছে। আমরা আপনাদের সাথে আছি।"
রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য রাখেন রাজশাহী-৩ আসনের এমপি অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী রেঞ্জ ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএম, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ঈশা, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহীর অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মো. হাবিবুর রহমান এবং রাজশাহীর পুলিশ সুপার মো. মামুনুর রশীদ।
সিনিয়র সহকারী কমিশনার অভিজিদ সরকার। এছাড়াও সভায় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ ও রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় তারা পূজা উদযাপন করতে গিয়ে বিভিন্ন সমস্যা ও সুযোগ-সুবিধার কথা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরেন।