রাজিবপুরে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

এফএনএস (প্রহলাদ মণ্ডল সৈকত; রাজারহাট, কুড়িগ্রাম) : | প্রকাশ: ১২ অক্টোবর, ২০২৬, ০৭:০১ পিএম
রাজিবপুরে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়, এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ উদ্যাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা নিশ্চিতকরণ, নিরাপত্তা, বৈষম্য দূরীকরণ এবং তাদের সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজিবপুর উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের উদ্যোগে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)শাহনুর রহমান। আলোচনা সভায় কন্যাশিশুর অধিকার সংরক্ষণ, শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি, শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং সমাজে তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি কন্যাশিশুর প্রতি সব ধরনের বৈষম্য দূর করা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নির্যাতন ও হয়রানি থেকে সুরক্ষা এবং তাদের জন্য নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুরা পরিবার, সমাজ ও দেশের গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ। তাদের যথাযথ শিক্ষা, পুষ্টি, নিরাপত্তা এবং বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে তারা দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। এ জন্য পরিবার থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সর্বস্তরে কন্যাশিশুর অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন।

তারা আরও বলেন, কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন, বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং শিশুদের অধিকার রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। কন্যাশিশুরা যেন কোনো ধরনের অবহেলা, বৈষম্য কিংবা নির্যাতনের শিকার না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন রাজিবপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক মোখলেছুর রহমান, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির আবুল বাশার  মোঃ আব্দুল লতিফ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীরা। সভায় কন্যাশিশুর অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের শিক্ষা ও বিকাশে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ধরনের আয়োজন কন্যাশিশুর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলা এবং তাদের জন্য বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ সমাজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন।

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে