ঢাকা থেকে রাজশাহী যাওয়ার পথে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) কাভার্ড ভ্যান থেকে চুরি হওয়া রাজশাহী বিভাগীয় দলের ক্রিকেটারদের আটটি লাগেজ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া লাগেজে ক্রিকেটারদের পাসপোর্ট, আইফোন, মার্কিন ডলার, পোশাক ও ক্রীড়াসামগ্রীসহ প্রায় সব মালামাল পাওয়া গেলেও নগদ তিন লাখ টাকা এখনো উদ্ধার হয়নি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজশাহী জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) অভিযান চালিয়ে লাগেজগুলো উদ্ধার করে। রাজশাহীর পুলিশ সুপার মামুন অর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটক ব্যক্তিরা রাজশাহীর পুঠিয়া ও চারঘাট উপজেলার বাসিন্দা। পুলিশ জানিয়েছে, তারা চলন্ত কাভার্ড ভ্যানের দরজা খুলে মালামাল চুরিতে অভিজ্ঞ।
জাতীয় ক্রিকেট লিগের (এনসিএল) দ্বিতীয় রাউন্ডে মিরপুরে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচ খেলে বুধবার সকালে উড়োজাহাজে রাজশাহী ফেরেন বিভাগীয় দলের ক্রিকেটাররা। অন্যদিকে, দলের সদস্যদের ৫৪টি লাগেজ বিসিবির একটি কাভার্ড ভ্যানে করে ঢাকার থেকে রাজশাহীতে পাঠানো হচ্ছিল। রাজশাহীর একটি হোটেলে লাগেজ নামানোর সময় আটটি লাগেজ না থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
ঘটনার পর ক্রিকেটার এসএম মেহেরব হাসান রাজশাহী মহানগরের রাজপাড়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর লাগেজ উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে রাজশাহী ও নাটোর জেলা পুলিশ।
রাজশাহীর পুলিশ সুপার জানান, আটক ব্যক্তিরা পেশাদার অপরাধী। চলন্ত কাভার্ড ভ্যানের পেছনের দরজা খুলে মালামাল সরিয়ে নেওয়ার কৌশল তাদের জানা ছিল। সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তারা ক্রিকেটারদের লাগেজ চুরি করেছে বলে পুলিশের ধারণা। তবে আটক ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
রাজশাহী বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থার সদস্যসচিব মোজাদ্দেদ জামানী সুমন জানান, লাগেজ উদ্ধারের খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে তাঁরা জেলা ডিবি কার্যালয়ে যান। সেখানে আটক পাঁচজনকে দেখেন। তাঁদের মধ্যে কয়েকজন ক্রিকেটারদের লাগেজে থাকা পোশাক পরেছিলেন। কেউ কেউ লাগেজ থেকে পাওয়া দামি সুগন্ধিও ব্যবহার করছিলেন।
তিনি বলেন, ক্রিকেটারদের হারানো মালামালের প্রায় সবই উদ্ধার হয়েছে। তবে একজনের লাগেজে থাকা নগদ তিন লাখ টাকা পাওয়া যায়নি। ওই টাকা উদ্ধারে পুলিশ চেষ্টা চালাচ্ছে বলে ডিবি কর্মকর্তারা তাঁদের জানিয়েছেন।
লাগেজে কী কী ছিল
ক্রিকেটার এসএম মেহেরব হাসানের লাগেজে ছিল পাসপোর্ট, আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, ৩০০ মার্কিন ডলার, নগদ তিন লাখ টাকা, প্রায় ৭০ হাজার টাকা মূল্যের তিনটি পারফিউম এবং ব্যবহৃত পোশাক।
আব্দুল কাদেরের লাগেজে ছিল প্রায় ৬০ হাজার টাকা মূল্যের একটি বিশেষ ম্যাসাজ বেল্ট, দুই জোড়া জুতা ও পোশাক। মোহর শেখ অন্তরের ব্যাগে ছিল প্রায় ৩০ হাজার টাকা মূল্যের একটি জেবিএল স্পিকার ও পোশাক। মো. ওয়ালিদের লাগেজে ছিল ব্যক্তিগত পোশাক। এ ছাড়া দলের যৌথ চারটি লাগেজে ক্রিকেটারদের ব্যবহৃত বিভিন্ন পোশাক ও সামগ্রী ছিল।
পুঠিয়ায় কাভার্ড ভ্যানের দরজা খোলা পান চালক
পুলিশের কাছে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, কাভার্ড ভ্যানের চালক সজীব হোসেন মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন। পথে হাটিকুমরুল-বনপাড়া বাইপাস এলাকার একটি হোটেলে খাবারের জন্য গাড়ি থামান তিনি।
পরে বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রাজশাহীর পুঠিয়া এলাকায় একটি ফিলিং স্টেশনে গাড়ি থামিয়ে কাভার্ড ভ্যানের পেছনের দরজা খোলা দেখতে পান চালক। তিনি দরজা বন্ধ করে রাজশাহীর উদ্দেশে যাত্রা চালিয়ে যান। পরে হোটেলে লাগেজ নামানোর সময় আটটি লাগেজ নিখোঁজ থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে।
ঘটনার পর রাজশাহী ও নাটোর জেলা পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। রাজপাড়া থানা থেকেও তদন্তে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হয়।
রাজশাহী বিভাগের ব্যবস্থাপক তৌহিদ তারেক এ ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “এ ঘটনায় আমরা অত্যন্ত বিব্রত ও মর্মাহত। অভিযোগ দেওয়ার পর পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে। খোয়া যাওয়া লাগেজ দ্রুত উদ্ধারে দুই জেলার পুলিশ সমন্বিতভাবে কাজ করছে বলে আমরা জেনেছি।”
এদিকে জাতীয় ক্রিকেট লিগের তৃতীয় রাউন্ডে রোববার (১৮ অক্টোবর) রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে বরিশালের মুখোমুখি হবে রাজশাহী বিভাগ। গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত মালামাল ও খেলার সরঞ্জাম হারানোর ঘটনায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। লাগেজ উদ্ধার হলেও নগদ তিন লাখ টাকা না পাওয়ায় বিষয়টির তদন্ত এখনো চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলার পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।