‘দৃষ্টি যেখানে সীমিত, সম্ভাবনা সেখানে সীমাহীন’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাঙ্গামাটিতে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে ‘বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস ২০২৬’। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকালে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ মিলনায়তনে জেলা প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র এবং পার্বত্য জেলা পরিষদের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য সুবিমল চাকমা সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার। আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রিজাউল করিম, রাঙ্গামাটি জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক ফরিদুল আলম, রাজবন বিহারের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি নিরুপা দেওয়ান এবং রাঙ্গামাটি প্রতিবন্ধী স্কুলের সাধারণ সম্পাদক আবচার উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দীপন তালুকদার বলেন, “প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা আমাদের সমাজ বা পরিবারের বোঝা নন, বরং সঠিক সুযোগ-সুবিধা ও আধুনিক প্রশিক্ষণ পেলে তাঁরাও দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে পারেন। পাহাড়ি অঞ্চলের প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও তাঁদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে বর্তমান সরকার ও জেলা পরিষদ বদ্ধপরিকর। ‘স্মার্ট সাদাছড়ি’ ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ভাই-বোনেরা নিজেদের পথচলাকে আরও নিরাপদ ও আত্মবিশ্বাসী করতে পারবেন। তাঁদের এই স্বাবলম্বী হওয়ার প্রক্রিয়ায় সমাজের সর্বস্তরের বিত্তবান ও সুশীল সমাজকে এগিয়ে আসার উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।”
এসময় বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির উদ্ভাবন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জীবনে নতুন আলোর সঞ্চার করেছে। সাধারণ সাদাছড়ির আধুনিক রূপ এই ‘স্মার্ট সাদাছড়ি’ পথচলার প্রতিবন্ধকতা আগেভাগেই শনাক্ত করতে সক্ষম, যা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিরাপদে চলাফেরায় কার্যকর সাহায্য করবে। প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁদের অধিকার রক্ষা এবং সুযোগ সমতা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
আলোচনা সভা শেষে আয়োজকদের পক্ষ থেকে উপস্থিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘স্মার্ট সাদাছড়ি’ এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের মাঝে হুইলচেয়ার তুলে দেন প্রধান অতিথি ও উপস্থিত অন্যান্য বিশেষ অতিথিবৃন্দ। অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক প্রতিবন্ধী ও তাঁদের অভিভাবক উপস্থিত ছিলেন।