নাটোরের লালপুরে চরের সন্ত্রাস, মাদক কারবার ও হ্যাকিং নিয়ন্ত্রণে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে অগ্রগতি হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার ফারজানা শারমীন পুতুল। একই সঙ্গে সন্ধ্যার পর কিশোরদের অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাফেরা না করে অভিভাবকদের তত্ত্বাবধানে রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) লালপুর উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
ফারজানা শারমীন পুতুল বলেন, “আমরা কাউকে অন্যায় করতে বলি না। নিয়ম মাফিক সব কাজ চলবে। সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আমরা অত্যন্ত চমৎকার একটা লালপুর গড়ার দিকে এগোচ্ছি। আগামী দুই-তিন মাসের মধ্যে চরের সন্ত্রাস, মাদক ও হ্যাকিং নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।”
কিশোরদের অনিয়ন্ত্রিত চলাফেরা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সন্ধ্যার পর বাচ্চাকাচ্চাদের বাবা-মায়ের হাতে তুলে দিতে হবে। তাদের মধ্যে অনুশাসন অত্যন্ত জরুরি। এ ক্ষেত্রে অভিভাবকদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও প্রয়োজন রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাজী মো. মেশকাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবীর হোসেন, লালপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম পলাশ, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড়, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. মুনজুর রহমান, নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর লালপুর জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান এবং উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমানসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন লালপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্যসচিব হারুনার রশিদ পাপ্পু, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছিদ্দিক আলী মিষ্টু, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক হামিদুর রহমান বাবুসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
শারদীয় দুর্গাপূজা প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দুর্গাপূজা সারা বাংলাদেশের উৎসব। বাংলাদেশে হিন্দু-মুসলিম, বৌদ্ধ-খ্রিস্টানের মধ্যে কোনো ভেদাভেদ নেই। সবাই বাংলাদেশি হিসেবে পরিচিত হবেন- এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার বাস্তবায়নের দিকেই সরকার এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, অতীতে সরকারে না থাকাকালীন সময়েও দুর্গাপূজাকে আনন্দমুখর করতে তাঁরা চেষ্টা করেছেন। এবারও দুর্গোৎসব সুন্দরভাবে উদ্যাপনে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। ৪৬ মন্দিরে চাল, বিতরণ সিএনজি-অটোরিকশা ও ক্রাশার মেশিন আইনশৃঙ্খলা সভা শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে লালপুরের ৪৬টি মন্দিরের প্রতিটিতে ৫০০ কেজি করে জিআর চাল বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। সে হিসাবে মন্দিরগুলোতে মোট ২৩ হাজার কেজি বা ২৩ টন চাল বিতরণ করা হয়। এ ছাড়া কাতার চ্যারিটির অনুদানে মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে সিএনজি, অটোরিকশা ও ক্রাশার মেশিন বিতরণ করা হয়।