বিলকিসের পরচুলা তৈরির কারখানায় কাজ করে স্বাবলম্বী আড়াই শ নারী

এফএনএস (শাকিল আহমেদ শাহরিয়ার; শেরপুর) :
| আপডেট: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:১৩ পিএম | প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর, ২০২৬, ০২:১৩ পিএম
বিলকিসের পরচুলা তৈরির কারখানায় কাজ করে স্বাবলম্বী আড়াই শ নারী

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী গ্রামের বিলকিস বেগমের (২৯) পরচুলা তৈরির কারখানায় কাজ করছেন প্রায় আড়াই শ নারী। অন্যের প্রতিষ্ঠানে পরচুলা তৈরির কাজ শিখে  বিলকিস বেগম নিজেই গড়েছেন কারখানা। কারখানাটি তদারকি করছেন   তিনি ও তার স্বামী মো. মিজানুর রহমান। তাদের কারখানার  তৈরি পরচুলার টুপি ঢাকা হয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন দেশে।

বিলকিস বেগমের এই যাত্রা খুব সুখকর ছিল না। মাত্র ১৬ বছর বয়সে বিয়ে হয়ে যায় তাঁর। স্বামীর অল্প আয়ে যখন সংসার চালাতে হিমশিম অবস্থা, তখন তিনি বেছে নেন কাঁথা সেলাইয়ের কাজ। পরে স্থানীয় নারী উদ্যোক্তা ইছমত আরার কাছ থেকে শেখেন পরচুলা তৈরির কাজ। ওই উদ্যোক্তার অধীনে তিনি ও তাঁর স্বামী মিজানুর রহমানও কাজ শুরু করেন। পরবর্তীকালে তারা গড়ে তোলেন পরচুলা তৈরির কারখানা। ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান তাদের জমি-ভবন নির্মাণসহ সার্বিক আর্থিক সহযোগিতা করে। রাজনগর গ্রামের মৃত আব্বাস আলীর স্ত্রী হাজেরা বেগম বলেন, ‘বিলকিস আপার কাছ থেকে এই পরচুলা তৈরির কাজ শিখে আমি এবং আমার মেয়েরা মাসে প্রায় ৩০ হাজার টাকা আয় করছি। মেয়েদের পড়াশোনাও ভালো চলছে।’

বিলকিস বেগম জানান, ঢাকার গোল্ডেন হেয়ার ক্যাপ প্রতিষ্ঠানের মালিকের সহযোগিতায় নিজেই কারখানা চালু করেন। তখন মাত্র ১০-১২ জন নারী থাকলেও পরবর্তীকালে অনেক নারীকে সেই কাজ শেখান। বাড়ির কাছে কারখানায় এসব নারী কাজ করে মাসে ১২ থেকে ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। ভবিষ্যতে কারখানা আরও বড় আকারে করার ইচ্ছা রয়েছে বলেও জানান তিনি। সরকারি-বেসরকারিভাবে সহায়তা পেলে কাজটি আরও বড় আকারে করা সম্ভব হবে বলে আশা তার।

বিলকিসের স্বামী মিজানুর রহমান বলেন, আমি রাজমিস্ত্রির সহযোগীর কাজ করেছি। পরবর্তীকালে পরচুলার কাজ শেখা শেষে স্বামী-স্ত্রী দুজনেই সেটি শুরু করি। তিনি বলেন,  ঢাকা থেকে মালিকপক্ষ পরচুলা তৈরির ক্যাপ, চুল, সুই, চক, পিনসহ সব কাঁচামাল পাঠিয়ে দেয়। আমাদের কারখানার একটি দোতলা ভবন ও একটি হাফ বিল্ডিং রয়েছে। কারখানায় স্থাপিত টুপি তৈরির টেবিলে বসে নারী শ্রমিকেরা সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত ক্যাপ তৈরি করেন। একজন নারী শ্রমিক মাসে ১০ থেকে ১৫টা ক্যাপ তৈরি করতে পারেন। আকারভেদে একেকটি ক্যাপের জন্য ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা করে পান নারী শ্রমিকের। এ ছাড়া হাজিরা বোনাস রয়েছে ১ হাজার টাকা। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন, শেরপুর জেলা শাখার উপব্যবস্থাপক মো. আতাউর রহমান ফকির বলেন, ‘শেরপুর সদরের পাকুড়িয়া, ঝগড়ারচর, নালিতাবাড়ীর নন্নী গ্রামসহ বেশ কয়েক জায়গায় পরচুলা তৈরির কারখানা রয়েছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে এসব উদ্যোক্তাকে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। এ ছাড়া কারও আর্থিক সহযোগিতা প্রয়োজন হলে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে স্বল্প সুদে ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে।’

আপনার জেলার সংবাদ পড়তে