পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার ঘোসেরহাট বাজারে অগ্নিকাণ্ডে সোলেমান শিকদারের একটি হোটেল সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এ ঘটনায় পাশের একটি ওষুধের দোকান ও একটি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হোটেলমালিকের দাবি, আগুনে তাঁর প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে হোটেলে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। শনিবার (১৮ অক্টোবর) দিবাগত রাত ২টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল রাজ্জাক শিকদার জানান, রাত আনুমানিক ২টার দিকে সোলেমান শিকদারের হোটেল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং হোটেলটি সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়। এ সময় পাশের একটি ওষুধের দোকান ও একটি বসতঘর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জিয়ানগর ফায়ার স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান শরীফ জানান, রাত ২টা ৪৫ মিনিটে তাঁরা অগ্নিকাণ্ডের খবর পান। পরে রাত ২টা ৪৮ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করেন। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে আশপাশের ঘরবাড়ি রক্ষা করতে সক্ষম হন। তবে হোটেলটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তিনি আরও জানান, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাতের কারণ জানা যেতে পারে।
হোটেলমালিক সোলেমান শিকদার জানান, আগুনে তাঁর হোটেলটি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। এতে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পাশাপাশি, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে তাঁর হোটেলে আগুন দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। তবে তাঁর এ সন্দেহের বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
অগ্নিকাণ্ডের পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. ফরিদ আহমেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ফারুক হোসেনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা। এ সময় ফরিদ আহমেদ বলেন, তাঁরা ক্ষতিগ্রস্ত হোটেলটি পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীর পাশে দাঁড়াতে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে। এ ঘটনায় ঘোসেরহাট বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।