খুলনা মহানগরী ও আশপাশের এলাকায় জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালিত আকস্মিক তদারকিমূলক অভিযানে নানা অনিয়মের দায়ে ৫টি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এর মধ্যে শুধু চিকিৎসাসেবা খাতের অনিয়ম ও মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহারের অপরাধেই দুটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। রোববার (১৮ অক্টোবর) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় ও জেলা কার্যালয়ের ৩টি টিম একযোগে এ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে চাল, ভোজ্যতেল, এলপিজি গ্যাস, ওষুধ, সবজি, ডিম ও মুরগিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার দর যাচাইয়ের পাশাপাশি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা খাতের তদারকি করা হয়।
অভিযান সূত্রে জানা যায়, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিমের নেতৃত্বে খুলনা মহানগরীর সদর ও সোনাডাঙ্গা থানার নিরালা মোড় এবং খানজাহান আলী রোড এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চরম অনিয়ম ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকিপূর্ণ কর্মকাণ্ডের চিত্র বেরিয়ে আসে। চিকিৎসাসেবা কার্যক্রমে মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট ব্যবহার এবং একই অপরাধ বারবার সংঘটিত করার দায়ে স্কলার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামক প্রতিষ্ঠানটিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একইভাবে ল্যাব ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় মেয়াদোত্তীর্ণ রি-এজেন্ট সংরক্ষণ করার অপরাধে লাজ ক্লিনিক এন্ড হেলথ কেয়ার নামকমপ্রতিষ্ঠানটিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
ভোক্তা-অধিকার কর্মকর্তারা জানান, সাধারণ মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে কোনো ধরনের অবহেলা বা অনিয়ম সহ্য করা হবে না। ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে রি-এজেন্টের মেয়াদ ও মান ঠিক রাখতে এ ধরনের কঠোর তদারকি অব্যাহত থাকবে। একই দিন বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দিনারা জামানের নেতৃত্বে সোনাডাঙ্গা ও সদর থানার আমতলা ও খানজাহান আলী রোড এলাকায় পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করায় মদিনা এন্টারপ্রাইজ-কে ৫ হাজার টাকা এবং পণ্যের মোড়ক যথাযথ ব্যবহার না করায় আনিছা এন্টারপ্রাইজ-কে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অন্যদিকে, কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোঃ মাসুম আলীর নেতৃত্বে মিরপুর উপজেলার হারু মোড় বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে যথাযথ পণ্য সরবরাহ না করার অপরাধে মাহফুজা ফার্মেসিকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে ব্যবসায়ীদের বাধ্যতামূলকভাবে দৃশ্যমান স্থানে মূল্য তালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের সঠিক ভাউচার সংরক্ষণ এবং সরকার নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহাম্মদ সেলিম জানান, জনস্বার্থে ভোক্তা-অধিকার রক্ষায় বাজার তদারকি এবং স্বাস্থ্যসেবা খাতের অনিয়ম রোধে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে।