সরকারি দায়িত্ব পালনের কঠোর নিয়মানুবর্তিতার মাঝেও শিল্প ও সংস্কৃতির চর্চা যে মানুষকে সাধারণ থেকে অনন্য করে তুলতে পারে, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলা হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা পেয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু। তিনি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্বেই নিষ্ঠাবান নন, বরং স্বীয় প্রতিভা ও সুরের জাদুতে জয় করে নিয়েছেন অজস্র মানুষের হৃদয়। বহুমাত্রিক প্রতিভার অধিকারী পেয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু একাধারে একজন গীতিকার, সুরকার এবং কণ্ঠশিল্পী। তাঁর রচিত প্রতিটি গানে প্রকাশ পায় জীবনের গভীর অনুভূতি, কৃষ্টি ও মাটির গন্ধ। নিজস্ব সুরসংযোজন এবং দরদী কণ্ঠের পরিবেশনা তাঁর গানগুলোকে এনে দিয়েছে এক আলাদা মাত্রা। তাঁর গাওয়া ও সুর করা গানগুলো স্থানীয় সীমানা ছাড়িয়ে শ্রোতাদের মন স্পর্শ করেছে।পেশাগত দায়িত্ব ও শিল্পচর্চার অপূর্ব মেলবন্ধন সাধারণত সরকারি কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ততার মাঝে শিল্পচর্চা অব্যাহত রাখা বেশ কঠিন। তবে পেয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু প্রমাণ করেছেন, সদিচ্ছা ও ব্যাকুলতা থাকলে কাজের ব্যস্ততা কখনোই শিল্পসাধনার অন্তরায় হতে পারে না। দিনভর সরকারি ফাইলপত্র ও হিসাব-নিকাশের দায়িত্ব সুচারুভাবে পালনের পাশাপাশি তিনি নিয়মিত গান চর্চা ও নতুন গান সৃষ্টি করে চলেছেন। হাতিয়ার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে পেয়ার মোহাম্মদ পেয়ারু এর অবদান অনস্বীকার্য। দ্বীপ অঞ্চলের মানুষের সুখ-দুঃখ এবং অনুভূতিকে তিনি তাঁর গানের সুর ও কথায় নতুন রূপ দিয়েছেন। তাঁর এই বহুমুখী সাংস্কৃতিক সাধনা হাতিয়াবাসীর কাছে অত্যন্ত গর্বের বিষয়। স্থানীয় অধিবাসীদের মতে, প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা যেমন প্রশংসনীয়, তেমনি শিল্পী হিসেবে সংগীত জগতে তাঁর অবদান হাতিয়াবাসী দীর্ঘকাল শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ রাখবে। সুর ও সংগীতের মাধ্যমে তিনি যেভাবে মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিয়েছেন, তা তরুণ প্রজন্মের জন্যও এক বিরাট অনুপ্রেরণা। প্রশাসনিক কাজের পাশাপাশি সংগীতের এই পথচলা আরও দীর্ঘ ও মসৃণ হোক-এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীদের।