রাজশাহীর বাগমারার গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নে ভূয়া প্রতিবন্ধীদের ভাতা উত্তোলন করতে গিয়ে স্থানীয় লোকজন এক ইউপি সদস্যকে আটক করে লাঞ্চিত করার ঘটনা ঘটেছে। এসময় তাঁর কাছ থেকে ১২টি মোবাইল সিম উদ্ধার করা হয়েছে। ওই ইউপি সদস্যের নাম শহিদুল ইসলাম (৪৫)। তিনি গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের চার নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সদস্য। তিনি ১২জন ভূয়া প্রতিবন্ধীর তালিকা তৈরি করে তাঁদের নামে বরাদ্দ টাকা আত্নসাতের চেষ্টা করছিলেন। তবে ইউপি সদস্য অভিযোগের আংশিক স্বীকার করে দাবি করেছেন, এই ভাতার তালিকাভূক্তিতে চেয়ারম্যান সহযোগিতা করেছেন। তাঁকে মারপিট করে ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা কেড়ে নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টার দিকে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম গোবিন্দপাড়া ইউনিয়নের মাড়িয়া মোড়ে স্থানীয় বিকাশ পরিবেশক (এজেন্ট) এনামুল হকের কাছে মোবাইল ফোন থেকে প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা উত্তোলনের জন্য যান। তাঁর কাছে থাকা ১০টি মোবাইল অপারেটরের সিমকার্ড বের করে বিকাশ প্রতিনিধিকে দেন। এসময় সেখানে থাকা লোকজনের সন্দেহ হয়। এতগুলো সিমকার্ড কোথায় পেলেন এবং কীসের টাকা উত্তোলন করবেন এনিয়ে প্রশ্নের মুখোমুখি হন স্থানীয়দের। ইউপি সদস্যকে চড় থাপ্পড় মেরে
দোকান থেকে বের করার চেষ্টা করা হয়। এসময় সেখানে ইউপি সদস্যের পক্ষের লোকজন উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে স্থানীয় হাট গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। লোকজনের কাছ থেকে ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ইউপি সদস্যের কাছে থাকা ১২ টি সিম কার্ডের মধ্যে ১০টি জব্দ করে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানকে ডেকে তাঁর কাছে জমা দেওয়া হয়।
ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান, ' ইউপি সদস্য বিগত সরকারের সময়ে ১২ জন ভূয়া প্রতিবন্ধীর তালিকা তৈরি করে তাঁদের টাকা আত্নসাত করে আসছেন। কিছুদিন আগে প্রতিজনের বিকাশ হিসাবে ১০ হাজার ৮০০ টাকা
এসেছে। ওই সিমগুলো নিজের ও স্বজনদের নামে নিবন্ধিত। টাকা উঠাতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা খায়ছেন। ' সিমগুলো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পরামর্শে নিজের কাছে রেখেছেন বলে জানান।
তবে ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন,' আমার, বাবা, ভাই ও ভাস্তির (ভাতিজি) নাম প্রতিবন্ধীর তালিকায় আচে, এটা চিয়ারমেনই কইরা দিচে, আজকে আমাক ধইরা মাইরা ভাতার ৫৯ হাজার ৫০০ টাক কাইড়া লিচে তার লোকজন। কেন এমন করলেন চেয়ারম্যান এবিষয়ে জানতে চাইলে বলেন, ' আমি এবার চিয়ারমেন পদে ভুট করবের চাইছি, তাই ষড়যন্ত্র।' তবে চেয়ারম্যান টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন,' শুধু আমার কাছে ১০টি সিম জমা আছে।'
স্থানীয় বাসিন্দা কলেজ শিক্ষক পারভেজ জানান, ইউপি সদস্য প্রকৃত প্রতিবন্ধী কাউকে ভাতাভূক্ত না করে নিজের স্বজনদের নামে নিয়ে আত্মসাৎ করে আসছেন। আজ টাকা উত্তোলনের সময় তারা হাতেনাতে ধরেছেন৷ এর তদন্ত করে বিচার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন।
হাট গাঙ্গোপাড়া পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পুলিশ পরিদর্শক মাকসুদ রুপক বলেন, পুলিশ বিশৃঙখার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেছে। ইউপি সদস্যকে উদ্ধার করে নিরাপদ করা হয়েছে।
উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মতিনুর রহমান বলেন,' আজকের ঘটনাটি জানি না, তবে আমি যোগদানের পর জেনেছি, ওই ইউপি সদস্য নিজের, বোন, ভগ্নিপতিসহ স্বজনদের নামে ভাতা নিচ্ছেন। তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেছে। আগামীতে আর পাবে না।'