জামালপুরে যমুনা সার কারখানা দুই বৎসরে সার উৎপাদন ৩দিন

এফএনএস (এস এম এ হালিম দুলাল; জামালপুর) : | প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর, ২০২৬, ০৬:১৯ পিএম
জামালপুরে যমুনা সার কারখানা দুই বৎসরে সার উৎপাদন ৩দিন

জামালপুরের সরিষাবাড়ির তারাকান্দিতে অবস্থিত দেশের সর্ববৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত যমুনা ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (জেএফসিএল)এর যমুনা সার কারখানার গত ১৫দিনে বয়লারের ত্রুটি মেরামত করে  শুক্রবার (২৩ অক্টোবর)/২৬ সকালে কারখানাটি আবারও চালু হয়েছে। কিন্তু উৎপাদন শুরুর আনন্দ স্থায়ী হওয়ার আগেই আবারও দেখা দিয়েছে বন্ধ হওয়ার নতুন করে শঙ্কা। জানাযায়, সরবরাহ কৃত তিতাস গ্যাস প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় হয়তো আগামী দুই এক দিনের মধ্যে আবারও কারখানাটি সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন করাখানা কর্তৃপক্ষ।

যমুনা সার কারখানার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (রসায়ণ) মো. ফজলুল হকের দেয়া তথ্যমতে, নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন ৪২ থেকে ৪৩ এমএমসিএফ গ্যাস সরবরাহ প্রয়োজন। সেখানে প্রয়োজনীয় গ্যাস চাপ না থাকায় যান্ত্রিক ত্রুটি মেরামত করে কারখানা চালু করা হলেও ইউরিয়া উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটছে না। তিনি বলেন, শুক্রবার সকাল ১০ টার দিকে কারখানায় চালু হলেও প্রয়োজনীয় মাত্রায় গ্যাসের সরবরাহ না করা হলে পুরনায় আগামী দুই এক দিনের মধ্যে ফের করখানা বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করছেন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানাযায়, যমুনা সার কারখানাটি গত ২০২৪ সালের ১৫ জানুয়ারি তিতাস গ্যাস সংকটে টানা ২৩ মাস ৯ দিন ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ থাকার পর গত দুই বছরে সার উৎপাদন হয়েছে মাত্র তিন দিন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংসদীয় কমিটি। সার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার মুল কারণ প্রয়োজনীয়  তিতাস গ্যাস সরবরাহ না থাকা। গ্যাস সংকটের কারণে কারখানা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় যন্ত্রাংশ জং মরিচা ধরে লিকেজ হয়ে বারংবার কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর তিতাস গ্যাস কোম্পানি গ্যাস সরবরাহ শুরু করলেও প্রয়োজনীয় চাপ ধরে রাখতে পারছেন না। তাই ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি গ্যাসের চাপ ৮ কেজিতে নেমে এলে বয়লার ‘স্ট্রিপ’ করে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি/২৬ গ্যাসের চাপ আরও কমে ৫ দশমিক ২ কেজিতে নেমে এলে পুরো কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

বর্তমান সরকারের নির্দ্দেশে গত ২০ সেপ্টেম্বর/২৬ আবারও তিতাস গ্যাস সরবরাহ শুরু করে। ৬ অক্টোবর রাত ৩টা ১০ মিনিটে উৎপাদনে যায় কারখানাটি। কিন্তু সেই উৎপাদন শুরুর মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অর্থাৎ ৮ অক্টোবর বয়লারে লিকেজ দেখা দিলে আবারও কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। অবশেষে ১৫ দিনে বয়লারের লিকেজ মেরামত করে শুক্রবার সকালে উৎপাদন শুরু হয়েছে। কিন্তু এবারও কারখানাটি চালু হলেও প্রয়োজনীয় তিতাস গ্যাসের চাপ না থাকায় যে কোন মুহুর্তে সার কারখানাটির আবারও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

অভিজ্ঞ মহল মনে করেন শুধু যমুনা সার কারখানা গ্যাস সংযোগ দিয়ে চালু করলে চলবেনা বরং সার উৎপাদন টিকিয়ে রাখতে হলে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ নিশ্চিত করে উৎপাদন সচল রাখার নিশ্চয়তা দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের। অন্যথায় আগামী ইরি-বোরো মৌসুমে কৃষকদের সার সংকট তীব্র আকার ধারণ করবে বলে আশঙ্কার প্রকাশ করছেন এলাকাবাসি। দেশের সর্ববৃহৎ ইউরিয়া সার উৎপাদন কারি প্রতিষ্ঠান যমুনা সার কারখানাটি স্থিতিশীল উৎপাদনে ফিরতে হলে প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সরকারের সার উৎপাদন চালুর উদ্যোগ ভেস্তে যাবে,এমনকি আগামী ইরি-বোরো মৌসুমে সার সংকট তীব্র আকার ধারণ করবে। মহা বিপদের মুখে পড়তে হবে সারা দেশের কৃষকদের।


আপনার জেলার সংবাদ পড়তে